ফুটবল ইতিহাসে কিছু ছবি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। লিওনেল মেসির কোলে থাকা পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশুর ছবিও তেমনই এক মুহূর্ত। ১৯ বছর আগে তোলা সেই ছবিটি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ সেই শিশুই এখন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।
ঘটনাটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের। তখন মেসির বয়স মাত্র ২০ বছর। বার্সেলোনার হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে থাকা এই আর্জেন্টাইন তারকা ইউনিসেফ এবং কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। ওই আয়োজনের অংশ হিসেবে লটারিতে বিজয়ী হওয়া কাতালুনিয়ার মাতারো অঞ্চলের একটি স্বল্প আয়ের পরিবার তাদের পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পায়। সেই শিশুটিই ছিলেন বর্তমান স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা লামিন ইয়ামাল।
বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে ছবিটি তোলা হয়। ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরে জানান, মেসি তখন বেশ লাজুক ছিলেন। পানিভর্তি একটি প্লাস্টিকের টাবে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, তা প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না। পরে ইয়ামালের মা শেইলা ইবানার সহায়তায় ফটোশুট সম্পন্ন হয়। সেই মুহূর্তই পরবর্তীতে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় ছবিতে পরিণত হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর ছবিগুলো জনসমক্ষে আনেননি ইয়ামালের বাবা। তার আশঙ্কা ছিল, ছোটবেলা থেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হলে ছেলের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে মুহূর্তের মধ্যেই সেগুলো বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইয়ামালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ছবিটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফুটবলপ্রেমী রসিকতা করে বলছেন, গোসলের সময় মেসি যেন নিজের অজান্তেই ছোট্ট ইয়ামালের মধ্যে ফুটবল জাদুর ছোঁয়া দিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও এটি নিছকই ভক্তদের কল্পনা, তবু মেসি ও ইয়ামালকে ঘিরে সেই ছবিটি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন ও প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এএন