জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী উলামা পরিষদসহ সমমনা ১৩টি ইসলামী দল। এ সময় তারা জঙ্গি-জামায়াত বিরোধী রাজারবাগ দরবার শরীফকে মূল্যায়নের আহবান জানান। 

শনিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন থেকে অপপ্রচার বন্ধে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট, সি.আই.ডির ভুল তদন্ত প্রত্যাখানের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। 

আল্লামা শোয়াইব আহমদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- মাওলানা ক্বারী কাজী মাসউদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা আ: সাত্তার, মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব ১৯৭১ সালে ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। হাইকোর্ট এবং আইনমন্ত্রীর নামেও রাজারবাগ শরীফকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। প্রচার হয়েছে, ‘রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের’। 

বাস্তবিকপক্ষে এরকম কোনো নির্দেশই দেয়নি হাইকোর্ট। আইনমন্ত্রীর এক অনুষ্ঠানের বরাতে বলা হয়েছে, ‘রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারী আইনমন্ত্রীর’। এই নিউজের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানিয়েছেন, তিনি রাজারবাগ শরীফ নিয়ে এরকম কোনো বক্তব্য দেননি। 

তারা বলেন, কোথাও নিউজ হচ্ছে ৪৯ মামলা, কোথাও ৮০০ মামলা। কোথাও ৭ হাজার একর, কোথাও নিউজ হচ্ছে ৬ হাজার একর, কোথাও ৩ হাজার একর, আবার কোথাও বা ১ হাজার একর জমি দখল। মূলত এসব তথ্য বৈপরীত্যই প্রমাণ করে এ সবই জঙ্গী-জামাতবিরোধী শতভাগ সুন্নতী আমলের হক্ব দরবার শরীফ রাজারবাগ শরীফের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

বক্তারা বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফ সম্পর্কে সি.আই.ডির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কিভাবে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দরবার শরীফের পেছনে ৩ শতাংশ জমির উপর তিনতলা বাড়ি দখলের জন্য কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। প্রকৃত সত্য রাজারবাগ দরবার শরীফের পেছনে ৩ শতক জায়গায় কোনো বাড়িও নেই এবং কোনো ৩ তলা বিল্ডিংও নেই। এটা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। রাজারবাগ শরীফ সম্পর্কে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটাই বর্তমান পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। মানবাধিকার কমিশনের সম্পূর্ণ রিপোর্টে কোথাও রাজারবাগ শরীফের কোনো বক্তব্য নেই, রাজারবাগ শরীফের সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং কোনো জিজ্ঞাসাও করা হয়নি, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি।

আমারসংবাদ/এমএস