বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইতিবাচক উদ্যোগ

স্থানীয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, ঢাকা শহরের বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মন্ত্রী জানান, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর ঢাকা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বর্জ্য সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে না। গত শনিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মাননীয় মন্ত্রীর এ আশ্বাস উৎসাহ ব্যঞ্জক। তবে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। শুধু কথার কথার আবরণ ভেদ করে প্রকল্পের কাজ তড়িৎ গতিতে শুরু হলে ঢাকা রাজধানী ময়লা -আবর্জনার দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত হবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎতের সাশ্রয় হবে। ঢাকা রাজধানীতে মানুষের ক্রমবর্ধমান চাপ সৃিষ্ট হচ্ছে।
এতে অন্যান্য সমস্যার মধ্যে যেমন যানজট প্রকট হচ্ছে তেমনি বর্জ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। বর্জ্যরে বিষাক্ত গন্ধে সমগ্র ঢাকা অসুস্থ নগরীতে পরিণত হয়েছে। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে গেলে বোঝা যায় দেশের কত শতাংশ মানুষ অসুস্থ। এদের অনেকে ঢাকার দূষিত পরিবেশের কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক কোটি মানুষের বর্জ্য ঢাকা রাজধানীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফেলা হচ্ছে। যতই এই বর্জ্য টিনের ব্যাড়া দিয়ে আগলে রাখা হোক, র্দুগন্ধ থেকে কোনো রেহাই নেই। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এতে মানুষ অসুস্থ না হয়ে পারবে না। প্রতি মুহূর্তে মানুষ দূষিত -বিষাক্ত বাতাস নাক দিয়ে টেনে নিচ্ছে, অসুস্থ হচ্ছে, আয়ু কমছে। এটা একটি জাতীয় সমস্যা, যেমন জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা।বর্জ্য দিয়ে যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু হয় তাহলে এক দিকে বর্জ্যরে দুর্গন্ধ থেকে মানুষ রেহাই পাবে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে। আমরা পত্রপত্রিকায় পেয়েছি যে, গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং তা দিয়ে কলকারখানা চালানো হচ্ছে। এতে গ্যাসের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে। গ্যাসের কোনো নতুন সংযোগ দিতে পারছে না সরকার। এতে দেশের উন্নয়ন বাধগ্রস্ত হচ্ছে। গৃহস্থরা গ্যাস সংকটে কষ্ট পাচ্ছে। একটি আধুনিক দেশ গড়তে হলে অবশ্যই দেশকে লাকড়ি-খড়ির রান্না থেকে রেহাই দিয়ে সমগ্র দেশকে গ্যাসের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু অনেকদিন যাবৎ সংযোগের প্রসার থেমে আছে। এতে ছোট ছোট কলকারখানা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। উদ্যোক্তারা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। গ্যাসের সংকট নিরসন বর্জ্য দিয়ে হতে পারে যদি সত্যি সত্যি বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। বিদ্যুৎতের জন্য যত কম গ্যাস ব্যবহৃত হবে, তত গ্যাস সাশ্রয় হবে, গৃহস্থ বাড়িতে, রাজধানীর আবাস গৃহে নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে পারবে সরকার। বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে সন্দেহ নেই। সরকারকে আমরা অনুরোধ জানাবো এ বিষয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে। আমাদের তীক্ষ্ম চোখ দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে কোন্ তুচ্ছ বিষয়ের মধ্যে অমূল্য সম্পদ লুকিয়ে আছে। পত্রিকায় পেয়েছি, গরুর গোবর দিয়ে অনেক গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাস প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই গ্যাসে ঘরে ঘরে রান্নার কাজ চলছে। চালু হয়েছে সোলার বিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুৎ। আজকাল ঢাকা শহরের এবং অন্যান্য শহরের ছাদে কৃষি কাজ হচ্ছে। এ খবরও পেয়েছি আমরা যে এক যুবক তার জমিতে রাসায়নিক কৃত্রিম ব্যবহার না করে গোবর, বর্জ্য, মানুষের নির্গত ময়লা ব্যবহার করে অনেক কম খরচে ধান পাট ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন করেছে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা কোনো কঠিন কাজ নয়। সরকারের উচিত এই পদক্ষেপকে সফল করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই পদক্ষেপ সফল হলে ঢাকা রাজধানী বর্জ্যমুক্ত হবে এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে অন্যদিকে বায়ুদুষণ রোধ হবে।