যমুনা থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার এই নিষ্ঠুরতার তদন্ত চাই

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে যমুনা নদীর স্পার বাঁধ এলাকা থেকে এক শিশু ও দুই নারীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ নদী থেকে বস্তা দুটি উদ্ধার করে। বস্তা খুলে দেখতে পান তার একটির মধ্যে ১টি শিশু ও ১টি নারীর লাশ। আরেক বস্তায় ছিলো আরেকটি নারীর লাশ। দুই নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ ও ৫০ বছর। তাৎক্ষণিকভাবে এই নিষ্ঠুর ঘটনার ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি সাহেব কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, এনায়েতপুর স্পার বাঁধের পূর্ব -দক্ষিণ পাশে বড় দুইটি বস্তা ভাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। নিহত তিনজনের গলায় রশি পেঁচানো ছিলো। তাদের নাক মুখ দেখে আদিবাসী বলে মনে হয়। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 লাশগুলো ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরা একই পরিবারের সদস্য হতে পারে। ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ।
 এটি অমানবিক-নিষ্ঠুরতার চিত্র। আমাদের সমাজ কতভাবে আক্রান্ত তাই ভাবছি। জঙ্গিরা তাড়া করে ফিরছে সমাজের নিরিহ মানুষদের। তারা ক্রিমিনাল, দাগী আসামী, অপরাধীদের কিছুই বলে না, জ্ঞানী, গুণী, ধর্মসাধক, নির্দোষ-নিরিহ মানুষদের বিনা অপরাধে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আবার জঙ্গি ছাড়াও সমাজের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে আছে হৃদয়হীন ঘাতক। যে কোনো স্বার্থহানির কারণে কিংবা স¦ার্থ উদ্ধারের তাড়নায় কালো হাত বাড়িয়ে দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে মানুষ। যেখানে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ হওয়া দরকার, সেখানে মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা করছে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য। মানুষ হত্যা কোনো মামুলি ঘটনা নয়, চূড়ান্ত রকমের একটি বর্বরতা। জীবনের মূল্য সব চেয়ে বেশি। জীবন দান করেন আল্লাহ। জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেবার মালিকও তিনি। তার হিসেব মতো নির্দিষ্ট সময়ে তিনি এ কাজটি করবেন। সেখানে দুর্বৃত্ত ঘাতকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এই অপরাধের সীমা কতদূর তা কল্পনা করা মুশকিল।
  আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনির ভূমিকা এই তিনটি নারি-শিশুর ভাসমান লাশের সঙ্গে জড়িত। সমাজের ঘাতক- অপরাধীরা কোনো না কোনো ভাবে ছাড় পাচ্ছে, রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।  এ কারণে তাদের নিষ্ঠুরতা হ্রাস পাচ্ছে না।প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতায় খবর হয়ে আসছে হৃদয়হীন অপঘাত মৃত্যুর। আজকেরই(২/৮/১৬) সহযোগী দৈনিকে আছে, ‘নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামে খালেদা আক্তার নামে ৭ মাসের অন্তঃসত্বা এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩১ জুলাই তারিখে সহযোগীটি বলেছে, ‘রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলায় এক বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার উপজেলার চাতাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়। ১ আগস্টে সহযোগীটি জানাচ্ছে, রাজধানীর আদাবর থানা হাজতে ৬০ বছর বয়সী আবদুল মান্নান নামে এক আসামীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
 এটা কোনো ভালো খবর হতে পারেনা যে, থানা হাজতে আসামী আত্মহত্যার সুযোগ পাবে। এরপর বলা হচ্ছে, রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় জেসমিন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকার আশুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 এমনি প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাচ্ছি। রোগ- বালাইতে নয় আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত, অদৃশ্য ঘাতকরা নর-নারি ও শিশু হত্যা করছে। ৩ আদিবাসী নারি-শিশুকে কোন্ দুর্বৃত্তরা হত্যা করে যমুনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে, আমরা তা জানতে চাই।