আবারো বিশ্ব ব্যাংকের বিনিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হোক পদ্মাসেতু

পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ আটকে দেয়ার পর অবশেষে আবারো বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ-ভারত-ভূটান এর মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার সহযোগিতা করবে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ-প্রতিনিধি কিমিয়াও ফ্যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে এ কথা বলেন। বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বললেন কিমিয়াও ফ্যান। উল্লেখিত প্রকল্পের জন্য আপাতত ১২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বরাদ্দ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে এই বরাদ্দ আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিলো, তারা আবারো বিনিয়োগ করছে। এর অর্থ কোনো কিছুই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। বাংলাদেশ-ভূটান-ভারত-নেপালের মধ্যে নৌ, সড়ক ও রেলপথ আধুনিকীকরণ ও গতিশীল করতে কাজ করবে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া বন্দরগুলোও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলতে সাহায্য করবে। বিশ্বব্যাংকের ৩ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এই সুসংবাদ বয়ে আনার পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা কাজ করেছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে -পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে বলে বিশ্বব্যাংক তার অনুদান প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো। তৎকালীন বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ বর্তমান সরকারের প্রতিপক্ষ দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলো যে, কাল্পনিক অভিযোগ তুলে পদ্মাসেতুতে বরাদ্দ অর্থ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় এবং ইমেজ সংকটে পড়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন,‘ দেশীয় অর্থায়নেই পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হবে। বাঙালি জাতি যদি যুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করতে পারে তাহলে পদ্মাসেতু করতে পারবে না কেন?’ এই আত্মপ্রত্যয়শীল ঘোষণা শেষ পর্যন্ত কাজে লাগলো। তখন চীন, জাপান, ভারত সহ অনেক বন্ধু দেশ বেশি সুদ নেয়ার বিনিময়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে দিতে প্রস্তাব দিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী তাতে রাজি হননি। নিজস্ব অর্থায়নেই তিনি পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করে দিয়েছেন, অনেক দূর এগিয়ে গেছে কাজ।
১০ আগস্টের সহযোগী দৈনিক জানাচ্ছে, দেশের সবচেয়ে বড় সেতু নির্মাণে কর্মযজ্ঞ এগিয়ে চলেছে। মানুষের স্বপ্নের এই পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজের আরো একটি অগ্রগতিতে নদী তীরের দুই পারের বাসিন্দাদের মধ্যে লেগেছে খুশির হাওয়া। মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া ঘাটে নামানো হচ্ছে পদ্মাসেতু নির্মাণের সুপার স্ট্রাকচার। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্পান বহনকারী জাহাজ থেকে এগুলো নামানো হয়। চীনের তৈরি এই সুপার স্ট্রাকচার নিয়ে গত ২ জুলাই চীন থেকে জাহাজ রওনা হয়। গত ৩ আগস্ট সেগুলো বাগেরহাটের মংলাবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর নদী পথে গত সোমবার দুপুরে মাওয়া পদ্মাসেতু প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পদ্মাসেতুর প্রকল্প-নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে জাহাজ থেকে তা নামিয়ে ডাস্ট হাউসে নেয়া হয়। এর মাধ্যমে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে মূল সেতু, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়া এবং তদারকি কাজ ৬টি প্যাকেজে এগিয়ে চলছে। সড়ক নির্মাণের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। নদীতে পাইল বসানোর কাজও চলছে।
এমনই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা খবর পেলাম, বিশ্বব্যাংক ফের পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করছে। আমরা এতে আনন্দিত। আরো আশান্বিত হলাম যে, স্বপ্নের পদ্মাসেতু দ্রুত সম্পন্ন হবে। পেছনের তিক্ততা ভুলে সরকার বিশ্বব্যাংকের অনুদান পুনরায় গ্রহণ করতে সম্মত হওয়ায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।