আমরা দারিদ্র্য জয় করবো এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন কাম্য

গত শনিবার ২২ অক্টোবর ৭ কার্তিক, শারদীয় প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দারিদ্র্য জয় করে ঘরে ঘরে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দেবো আমরা। তিনি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে হতদরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি করার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ জনপ্রতিনিধিদের আহবান জানিয়ে বলেছেন, স্ব স্ব এলাকার দরিদ্র, গৃহহারা, নিঃস্ব, রিক্ত, হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের তালিকা প্রস্তুত করুন। সরকার তাদের বিনা পয়সায় ঘর করে দেবে। তারা যাতে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হবে।

দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের সংখ্যা কমিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে এক সময় দারিদ্র্য বলতে কিছু থাকবে না। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আর ২০২১ সালের মধ্যেই গড়ে তুলবেন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ। বলেছেন যে, একজন মানুষও যাতে না খেয়ে মারা না যায়, সে দিকে সরকার তীক্ষ্ন নজর রাখবে। সব বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার কথা বলেন। বলেন তিনি, দেশের প্রতিটি নাগরিক হবে সুশিক্ষিত। পুষ্টিহীনতা থাকবে না। প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নের জন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন, মাইক্রোক্রেডিটের পরিবর্তে মাইক্রোসেভিং করে দারিদ্র্য দূরীকরণের কার্যক্রম সফল হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষ বৈষম্য থাকবে না। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর নমুনা তুলে ধরে বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার, হাতে হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেয়া, ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ, বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি, সুপেয় পানি, তথ্য প্রযুক্তি সুবিধাসহ কমপক্ষে ৪৫ টি খাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়েছে।

এতে ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। অর্থনীতি ব্যাপকভাবে গতিশীল হয়েছে। আরো অধিকহারে বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে। ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি বাঙালিকে স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর বক্তৃতা ছিলো ধীর-স্থির, শৃঙ্খলাপূর্ণ। বর্তমান বাংলাদেশকে তিনি কোন পর্যায় থেকে নিয়ে এসেছেন, তা নমনীয় ভাষায় তুলে ধরেন। ২০২১ সালের মধ্যে কোথায় নিয়ে যেতে চান তাও তুলে ধরেন।

তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা মোতাবেক মনে প্রাণে কাজ করতে হবে। তাঁর স্বপ্নের সৈনিক হতে হবে নেতা-কর্মীদের। সৈনিকরা কখনো আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপাগল হয় না, তারা কমান্ডারের নির্দেশ পালনে তৎপর থাকে। তারাই কমান্ডারকে লক্ষ্যবিন্দুতে নিয়ে যান। শেখ হাসিনার সৈনিকরা সৎ হলে, ত্যাগী হলে, নৈতিকতায় দৃঢ় হলে তারা তাদের নেত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবেন। আমরা বার বার বলেছি, দল সরকারের বাইরের অংশ নয়। সরকারের পদক্ষেপ সফল হবে দলের লোকজনের দ্বারা, যদি তারা আন্তরিক হয়, সৎ হয়, পরিশ্রমী হয়। সরকারি অবকাঠামোর মধ্যেও সব লোক সরকার পক্ষীয় নয়, তারা কামনা করবে সরকারের ভরাডুবি। এ ক্ষেত্রেও প্রশাসনে কর্মরত দলীয় লোকজন সব বিপদ কাটিয়ে সরকারকে সাফল্যের বিন্দুতে নিয়ে যেতে পারেন। দলীয় রাজনীতির গুরুত্ব এখানে। সরকারের উচিত হবে আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। দেশের রাস্তাঘাটে সমস্যা আছে, ঢাকায় যানজট আছে, প্রশাসনে দুর্নীতি আছে, দলের অঙ্গসংগঠনগুলোতে দলাদলি ও চাঁদাবাজি আছে। এ সব সমস্যা দূর করে উন্নয়নের চলার পথকে কুসুমাস্তীর্ণ করতে হবে।