দু’প্রথাতেই সম-অপরাধ খুনিদের দ্রুত শাস্তি হোক

নার্গিসকে হত্যার চেষ্টাকারী- বদরুল কিংবা নিতু, আফসানা-রিশার হন্তারকরা অবশ্যই দোষী। তবে তারা এককভাবে একপক্ষীয় দোষী। মিডিয়া মারফত যতটুকু জ্ঞাত হওয়া গেছে, তাতে এসব অপরাধে নার্গিস, নিতু, আফসানা কিংবা রিশার কোনো দোষ-দায় নাই। প্রেমের প্রস্তাব কিংবা কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় এদেরকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা হত্যার চেষ্টা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে এসকল খুনীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। দেশবাসী কামনা করে শাস্তির সর্বোচ্চ দণ্ড এদের ওপর প্রয়োগ হোক। সে দৃষ্টান্তের দ্বারা অন্যরা যেমন অপরাধবৃত্তিতে জড়ানোর সাহস পাবে না তেমনি আমাদের বোনেরা নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারে। বদরুল এবং তার জ্ঞাতীদেরকে যে অর্থে অপরাধী বলা হচ্ছে, সে অর্থে গুরুতর অপরাধের স্বীকৃতি দিতে হবে আরও এক সম্প্রদায়কে। বিবাহ বহির্ভূতভাবে উভয়ের সম্মতিতে যে সকল তরুণ-তরুণী অনৈতিক অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তারা দ্বৈতভাবে অপরাধী। যদিও ধর্ম এদের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র তথা সমাজ, পরিবার এ বিষয়ে ধীরে ধীরে শীথিলতা প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং মূল্যবোধের অতিরিক্ত অবক্ষয়ে তরুণ-তরুণীসহ বয়সের বিভিন্ন স্তরের কিছু নারী-পুরুষ এটাকে এখন আর অপরাধ বলতেই নারাজ। তরুণ-তরুণীর এমন অবৈধ সম্পর্ক রোধে রাষ্ট্রের অলিতে-গলিতে, পার্কের বেঞ্চিতে কিংবা হোটেলের নিরব কক্ষে পাহারা বসানোর সামর্থ্য নাই বলে কি এটাকে মানুষ অপরাধ বিবেচনা করতে ভুলে যাবে ? অপরাধ সর্বত্রই অপরাধ, হোক সে প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে। মানতে কষ্ট হতে পারে, আজকে সমাজে যে অধঃপতন তার সূত্র অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক থেকে উদঘটিত। দৈহিক উত্তেজনা এবং সরল বিশ্বাসে একটি মেয়ে তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হারানোর পর দ্বিতীয়, তৃতীয়..এভাবে বারবার সেই ছেলের কাছে যেতে বাধ্য হয়। কেননা এ যুগের ছেলেরা তো আর বোকা নয়। সে মেয়ের অগোচরে কিংবা দু’জনের সম্মতিতে এ সম্পর্ককে স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য ভিডিও প্রমান রেখেছে। তাছাড়া গণিকাবৃত্তিতে জড়িত ছাড়া সবাই বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা প্রথমবার মেয়ে ভুলে কিংবা সাময়িক উত্তেজনায় ছেলের চাহিদাকে কিংবা উভয়ের প্রয়োজনকে মেটাতে যায় কিন্তু এর পরেরবার ছেলে নিশ্চিতভাবে মেয়ের দুর্বলতাকে ব্ল্যাক মেইল করবে। গোপনীয়তা প্রকাশ করতে বাধ্য হবে। কেননা ছেলের তো মেয়েকে বারবার প্রয়োজন। এসব মঙ্গল গ্রহের কথা বলছি না, চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষুদ্রাংশ এসব। তাছাড়া বিবাহের আগে যেসকল মেয়েরা ছেলেদের কাছে তাদের সর্বাস্ব লগ্নি করে ছেলেদের পক্ষ থেকে তাদের বিবাহের প্রবণতা ০.১ শতাংশেরও কম। আপনার বন্ধু কিংবা বান্ধবীর কেউ এমন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে জেনে কি আপনি তাকে বাঁধা দিয়েছেন নাকি উৎসাহ দিয়েছেন? বয়সের রক্তের কিছু দোষ থাকে, সে দোষকে দমন করে যারা এগিয়ে চলতে পারে তারাই তো বিজয়ী। বদরুল কিংবা তার জ্ঞাতীদেরকে দোষী করার সাথে সাথে নিজেকেও দোষী করতে শিখুন। নিশ্চিত করে বলুন তো, আপনার মধ্যেও বদরুল ঘুমিয়ে নেই ? সুযোগ পেলে আপনি নরপিশাচ না হয়ে মানুষের পরিচয় দিতে পারবেন ? একপক্ষীয় অপরাধের চেয়ে দ্বিপাক্ষীয় অপরাধ অবশ্যই বেশি গুরুতর। কেননা একপক্ষীয় অপরাধে ভুল একজনের থাকে কিন্তু দিপাক্ষীয় অপরাধে ভুল হয় যৌথের সমন্বয়ে। একটু স্থির থাকুন, বিশেষ প্রয়োজনে বিবাহ করুন কিন্তু অনৈতিকতার দিকে ধাবিত হওয়ার মত ধ্বংসশীল পথে পা বাড়ানো মোটেও উচিত হবে না। নিজের সম্মান রক্ষা করুন, পরিবারকে সামাজিক হেনস্তা থেকে বাঁচান। গোটা সমাজে পচন ধরেছে বলে আপনি কি পচনের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করবেন না ? মনুষ্যত্বের পচনের দুগন্ধ নাসিকা স্পর্শ করে না বটে, কিন্তু বিষিয়ে তোলে মানবজীবনের প্রতি শাখা-প্রশাখা। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে এমন বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক যা নিয়ে সে গর্ব করতে পারে। চরিত্র নিয়ে গর্ব করার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না। একটু চরিত্রবান হোন, জীবনের অর্থ এবং প্রাপ্তির হিস্যা আমূল বদলে যাবে। এই সমাজ হয়ত আপনাকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হবে কিন্তু আত্মতৃপ্তির যে উচ্চ মার্গে আপনি অবস্থান করবেন তার তুলনা আপনি কোন বস্তুর সাথে করতে পারবেন?। চরিত্রবান হিসেবে আরেকজন চরিত্রবান সঙ্গী পাওয়ার সুখানুভূতি পৃথিবীর অন্য কোনো মূল্যবান বস্তুর সমতুল্য নয়; বরং বহুগুণ বেশি। বিশ্বাস রাখুন, ভালোর জন্য ভালো এবং খারাপের জন্য খারাপই অপেক্ষা করছে।