Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‘বেকারত্ব দূর করতে ব্লু ইকোনমি ভূমিকা রাখতে পারে’

যোবায়ের ইবনে আলী,  হাবিপ্রবি

নভেম্বর ২২, ২০২১, ০১:৫৫ পিএম


‘বেকারত্ব দূর করতে ব্লু ইকোনমি ভূমিকা রাখতে পারে’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ স্টেম ফাউন্ডেশনের (বিডিস্টেম) উদ্যোগে ‘ন্যানোটেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশনস ফর ফোরআইআর ইন এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সিম্পোজিয়ামের বিষয়বস্তুর ওপর (থিম লেকচার) আলোচনা করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-২০২১  ফেলো অধ্যাপক ড.এম.আফজাল হোসেন, স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বেঞ্জামিন এস সিও, জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডভান্সড সায়েন্সের অধ্যাপক ড. ওসামো তাবাতা ও কামালা নেহেরু মহাবিদ্যালয়ের ড.ডব্লিউ. বি. গুরুনুল ।

প্রতিদিন দুটি সেশনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট আটটি দেশ থেকে ন্যানোটেকনোলজি, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ক্লাইমেট চেঞ্জ ইত্যাদি বিষয়ে ২১টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় ।যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. ইন্দ্রনীল চৌধুরীর প্রবন্ধ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে টেকনিক্যাল সেশন শুরু হয়। 

এদিন মুল আলোচকবৃন্দ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. রশীদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. জে. সালেহ আহাম্মদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

থিম লেকচারার হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আগামী দিনে মানুষ যেকোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে, ঝামেলামুক্ত, গতিশীল কিন্তু আরামদায়ক জীবনযাপন করতে তথ্যপ্রযুক্তি, ন্যানো ও বায়োটেকনোলজি-ভিত্তিক চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দিকে দ্রুতবেগে ধাবিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে আমাদের তরুণদের ন্যানোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ক্লাউড কম্পিউটিং, আইওটি ইত্যাদি বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

মুখ্য আলোচক হিসেবে অধ্যাপক ড. এম. আফজাল হোসেন তার প্রবন্ধে বলেন, সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্লু ইকোনমি একটি অপার সম্ভাবনাময় দিক। 

ব্লু ইকোনোমির অপার সম্ভাবনাকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশে বেকারত্ব দূর হবে, অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং ২০৪১ এর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নত দেশ বিনির্মাণ সহজ হবে। সুনীল অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা, দেশের সম্পদ বৃদ্ধি করা, সামাজিক পুঁজির সৃষ্টি করা, আয় বাড়ানো এবং সর্বোপরি পরিবেশে সঞ্চয়-বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

ড. আফজাল হোসেন আরো বলেন ,সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। সমুদ্র, মাছ এবং মত্স্য সম্পদের মাধ্যমে খাবার চাহিদা মেটায়, মানুষ এবং পন্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

এছাড়াও সমুদ্র নানা ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ যেমন বালি, লবণ, কবাল্ট, গ্রাভেল, এবং কপার ইত্যাদির আধার হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং তেল ও গ্যাস আহরণ ক্ষেত্র হিসেবে সমুদ্র প্রয়োজন হয়। এসব উপাদান সমষ্টিকেই বলা হয় সুনীল অর্থনীতি (Blue Economy)।

প্রধান আলোচককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বিডিস্টেমের প্রেসিডেন্ট ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে স্টেমভিত্তিক পাঠক্রমের মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি বিষয়েও গবেষণা ও পাঠদানে জোর দেয়ার কথা জানান।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোছাম্মত জান্নাতুল ফেরদৌস সেশন চেয়ার হিসেবে থিম লেকচার পর্ব পরিচালনা করেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. রিফাত শাহরিয়ার কো-চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

দেশ ও বিদেশ থেকে অসংখ্য বিজ্ঞানী, শিক্ষক, ছাত্র ও গবেষক অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে আলোচনা শোনেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ওই সেশনে চুয়েটের অধ্যাপক সজল চন্দ্র বণিক ও এআইইউবির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব রব্বানী যথাক্রমে সেশন চেয়ার ও কো-চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় সায়েন্টিফিক সাব-কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মমিনুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আমারসংবাদ/এআই