কৃষিতে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ১

কৃষিতে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ১

দ্বিতীয়বারের মতো কৃষিতে ডিগ্রি প্রদানকারী সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শাহরিয়ার আলম নামে এক তরুণ ধরা পড়েছে। সে কারমাইকেল কলেজের ছাত্র। 

শনিবার (২৭ নভেম্বর)সকাল সাড়ে ১১ টায় একযোগে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেছে ভর্তিচ্ছুরা।

জানা যায়, শেকৃবি কেন্দ্রে শাহরিয়ার আলম নামের ঐ তরুণ রংপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র তানভীর হাসান নামে এক ভর্তিচ্ছুর পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। প্রবেশপত্রে ছবির সাথে মিল না পেয়ে শেখ কামাল অনুষদ ভবনের ৯০১ নং রুম থেকে তাকে আটক করা হয়। শাহরিয়ার নিজেকে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরির বন্দর উপজেলায়। তার বাবার নাম মতিন মিয়া। সে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দিতে আসেন বলে দাবি করেন।

শেকৃবি কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নড়েবড়ে। চেকিং এর দায়িত্ব পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার্স গ্রুপ। কেন্দ্রে নামমাত্র ৭ জন পুলিশ থাকলেও কোন নারী পুলিশ ছিল না। ছিল না কোন জরুরি মেডিকেল টিম। খোদ শেকৃবির চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তারকে একটি পরীক্ষা হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শেকৃবি কেন্দ্রে এক ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। সর্বশেষ তথ্যমতে ঐ ছাত্রী নিউরো সায়েন্স হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত নাম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ভর্তিচ্ছুদের। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সিট পড়লেও সংক্ষিপ্ত নাম জটিলতায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। এডমিট কার্ডে কেন্দ্র এবং পূর্ণ নাম লিখে দিলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না বলে জানিয়েছে ভর্তিচ্ছুরা। এছাড়া পছন্দমতো কেন্দ্র নির্বাচন নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। 

প্রক্সির বিষয়ে শেকৃবির প্রক্টরিয়াল বডি সাংবাদিকদের জানান, তানভির হাসান (রোল-১২৪৩৩৯) নামের এক ভর্তিচ্ছুকের হয়ে প্রক্সি দিতে আসেন শাহরিয়ার।  তাকে আটক করার পরে সে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চায়। সে আমাদের যত তথ্য দিয়েছে সবগুলোই মিথ্যা মনে হচ্ছে। আমরা তাকে পুলিশের হাতে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় লিডে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দীন মিয়া শনিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে আমার সংবাদকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৭০-৭২ শতাংশ। কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত নাম নিয়ে কিছুটা ত্রুটি ছিল। আমরা সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

আমারসংবাদ/এআই