ব্লাউজ নিয়ে প্রসূনের আপত্তি

     রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘জীবিত ও মৃত’ গল্পের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। এতে ‘কাদম্বিনী’ ছিলেন রানীহাটের জমিদার শারদা শংকর বাবুদের বাড়ির বিধবা বধূ। সেকালের বিধবারা সাদা শাড়ি ব্যাতীত আর কিছুই গায়ে তুলতেন না। তাই কাদম্বিনীর গায়ে একখানা শুভ্র শাড়ি ব্যাতীত ব্লাউজও ছিলো। পাঠক নিশ্চয়ই ভাবছেন এত কিছু বলার কারণ কী?

সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথের প্রয়ান দিবসকে উপলক্ষ করে কাদম্বিনীকে আবারও ছোটপর্দায় আনছেন নির্মাতা তুহিন হোসেন। আজ ২৭ জুলাই ভোরে ‘জীবিত ও মৃত’ শিরোনামের নাটকটির চিত্রধারণ সম্পন্ন হয়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর জমিদার বাড়িতে টানা তিনদিনে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়। নাটকে ‘কাদম্বিনী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসূন আজাদ।

নির্মাতাসূত্রে জানা যায়, সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে নাটকটির শুটিং। তবে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেত্রী প্রসূন আজাদের জন্য ভয়াবহ বিপাকে পড়তে হয়েছিল নির্মাতাকে। কেননা, শুটিংয়ের ঠিক আগে প্রসূন আপত্তি তোলেন কাদম্বিনী চরিত্র রূপায়নে তিনি ব্লাউজ ছাড়া অভিনয় করতে পারবেন না। প্রসূনের যুক্তি, রবীন্দ্রনাথের নায়িকারা পড়বে ঘটি হাতার ব্লাউজ। ব্লাউজ ছাড়া কেন তাকে অভিনয় করতে হবে?

প্রসূনের সঙ্গে তাই নির্মাতার দ্বন্দ্ব উঠলো চরমে। প্রসূন ব্লাউজ ছাড়া অভিনয় না করার ব্যাপারে গোঁ ধরে বসে রইলেন। এতে শুটিং বন্ধ রইলো পাক্কা একদিন। আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলেন নির্মাতা তুহিন হোসেন।

তুহিন হোসেন বলেন, ‘সবকিছু ঠিকই ছিলো, কিন্তু শুটিং শুরুর আগের দিন প্রসূন তার আপত্তির কথা জানায়। অথচ কাদম্বিনী চরিত্রটি এমনটাই ডিমান্ড করে। যাই হোক তাকে অনেক বলে কয়ে পরের দিন শুটিং এ আনা হয়। কিন্তু শুটিং শুরুর পরপরই নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। অবশেষে সেদিনের মতো শুটিং বন্ধ রাখা হয়।’

নির্মাতা আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় দিন শুটিং শুরু করলেও, ভাষার ব্যবহার নিয়ে আবারো আপত্তি তুলে প্রসূন। মূলত রবীন্দ্রনাথের নাটকে যে ধরণেরে ভাষা ব্যবহার করার কথা আমি সেটাই করতে চেয়েছিলাম। যাই হোক নাটকের প্রযোজক ও অন্যান্য অভিনেতাদের সাহায্যে কোন রকমে নাটকটির শুটিং শেষ করেছি।’

তবে নির্মাতার এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসূন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে নেয়াই হয়েছে ব্লাউজ ছাড়া অভিনয়ের জন্য। আমি কেন নিষেধ করবো। আজ সকাল আটটায় আমি শুটিং সেট থেকে এসেছি।’

উল্লেখ্য, ‘জীবিত ও মৃত’ নাটকটিতে প্রসূন ছাড়াও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, শর্মী মালা, সেতু প্রমুখ। নাটকটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে প্রচার হবে।