দম ফেলার ফুরসত নেই পঞ্চগড়ের লেপ-তোষক কারিগরদের

ছবিঃ বিনায়েক রহমান

ক্যালেন্ডারের পাতায় সময়টা অগ্রহায়ণ মাস। ঋতুবৈচিত্র্যের এই বাংলাদেশে এখন চলছে হেমন্তকাল। হেমন্তের পরেই আসে শীত। তাই হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। তবে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় পঞ্চগড়ে বরাবরই শীতের প্রকোপ শুরু হয় হেমন্তের মাঝামাঝিতে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে অনেক আগেই শীত নেমেছে হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে।

দিনে গরম থাকলেও রাত হলেই কুয়াশায় মোড়ানো থাকে পুরো পঞ্চগড়। সন্ধ্যার পর পরই গায়ে জোড়াতে হচ্ছে গরম কাপড়। তবে শুধু গরম কাপড়ই নয়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে গরম কাপড়ের পাশাপাশি লেপ-তোষক বানাতেও হিড়িক পড়েছে এই জেলার মানুষদের। দোকানে দোকানে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড়।

অনেকে তৈরী করছেন নতুন লেপ-তোষক আবার অনেকেই চালিয়ে দিচ্ছেন পুরোনো তোষক ঠিক করেই৷ যার ফলে শীত পুরোপুরি আসার আগেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শহরের লেপ-তোষক কারিগরেরা । শীত বাড়ছে আর বাড়ছে লেপ-তোষক কেনাবেচা। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই এসব দোকানের কর্মচারীদের৷

সরেজমিনে জেলার পঞ্চগড় বাজার, বোদা বাজার ও ময়দানদিঘী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তুলা পিটিয়ে তা লাল কাপড়ের তৈরি কাভারে মুড়িয়ে সুঁই-সুতার ফোড়ে তৈরি করছে বিভিন্ন সাইজের লেপ-তোষক। তুলা ও আকার ভেদে তারা বিভিন্ন দামে একেকটি লেপ-তোষক বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আবার কেউ বা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার নিচ্ছেন লেপ-তোষকের। বছরের প্রায় পুরোটা সময় কাজ তেমন না থাকলেও এ-সময় টায় অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

পঞ্চগড় বাজারে এক কারিগর মহেশ চন্দ্র তিনি বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময় আমরা একটু বেশি ব্যস্ত থাকি, কাজের চাপ থাকে অনেক। অন্যান্য সময় আমাদের একটা লেপ বানাতেই ৫ ঘন্টা লাগে আর শীতের এই সময় ৫ টা লেফ বানাই ১০ ঘন্টায়।

নাসিরুদ্দিন নামের এক কর্মচারী বলেন, বছরের অন্য সময়টাতে দিনে ২০০-৩০০ টাকা হাজিরা পাই কিন্তু শীতের সময় আসলে সারাদিনে ৭০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কাজের চাপও অনেক বেশি থাকে, হাজিরাও ভালোই পাই। 

এবছর লেপের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একেকটা লেপ আমরা বারোশ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি। এটা মূলত আকার ও তুলার উপর নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, এবার তুলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়তি তাই লেপের দামটা একটু বেশি তবে মানুষজন তবুও কিনছে।

লেপ বানাতে আসা এক ক্রেতা জানান, শীত তো চলেই আসলো আর গত বছরের লেপ টা পুরোনো হয়ে গেছে তাই লেপ বানতে আসছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি। কিন্তু বানাতে তো হবেই যে ঠান্ডা পড়ছে, পুরনো লেপ দিয়ে তো আর শীত নিবারন হবে না!

লেখা: বিনায়েক রহমান, পঞ্চগড় থেকে।

আমার সংবাদ/রা.হা