ওমিক্রন নিয়ে দেশে না আসতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুরোধ

ওমিক্রন নিয়ে দেশে না আসতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুরোধ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ওমিক্রন আক্রান্ত ব্যক্তিগের দেশে না আসতে অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সাভার উপজেলায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ মযানেজমেন্টে (বিআইএইচএম) নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যারা দেশে আসবেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। তারা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। যারা বিদেশে আছেন, বিশেষ করে যারা আফ্রিকার দেশে আছেন এই মুহুর্তে দেশে না আসলেই ভালো হয়। কারণ আপনারা আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে চাইবেন। তাই যে যেখানে আছেন সেখানেই নিরাপদে থাকেন।

তিনি বলেন, আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব ইতিমধ্যে সব নিয়েছি। আমরা একটা সভা করেছি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। সেই সভা থেকে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাউথ আফ্রিকা ও ওমিক্রন আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে যে ই আসবে তাকে ৪৮ ঘন্টা আগে টেস্ট করে আসতে হবে। এবং তাদেরকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। বর্ডারে পরীক্ষা জোরদার করেছি। কোয়ারেন্টিন জোরদার করেছি। বিশেষ করে ঢাকায় যেসব হাসপাতালে আগেও চিকিৎসা হয়েছে সেখানে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন করা যাবে। তার বাইরেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ল্যাবের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে দুই হাজার স্কয়ার ফিটের ল্যাব ছিলো সেটি ৩০ হাজার স্কয়ার ফিটের বেশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

সীমান্ত বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই মুহুর্তে বর্ডার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশ ভালো আছে নিরাপদে আছে। এখনও এমন পরিস্থিতি হয়নি বর্ডার বন্ধ করতে হবে, লকডাউন দিতে হবে। বর্ডারে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তত রেখেছি। আমরা ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় চিঠি দিয়েছি তারা যেন ওমিক্রন মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আপনারা জানেন জনবল খুবই প্রয়োজন। এজন্য ৮ হাজার নতুন নার্স ও ৪ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধযে ৭ কোটির বেশি প্রথম ডোজ ও চার কোটির কাছাকাছি দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিয়েছি। এটাও একটা বড় প্রস্তুতি। কারণ ওমিক্রনকে যদি মোকাবেলা করতে হয় তাহলে টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতন হতে হব। আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বুস্টার ডোজ গেয়া সুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। আমরা ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করবো। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ত্রাণ দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. লোকমান হোসেন মিঞা,  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এবং ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মইনুল হাসান প্রমুখ।

আমারসংবাদ/এআই/এমএইচ