- ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ছে প্রায় আড়াইগুণ হারে
- ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলা ডেঙ্গুর হটস্পট
- দেশে এক দিনে আরও ১১ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪৩১
জেলায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি নেই। আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি
—ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী
সিভিল সার্জন, মানিকগঞ্জ
স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে
—অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার
কীটতত্ত্ববিদ
সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগী ঢাকার বাইরে কিছুসংখ্যক হারে বাড়তে শুরু করলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রতিদিন ঢাকার চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ হারে রোগী বাড়ছে। মৃত্যুও বাড়ছে ঢাকার বাইরের রোগীর। আশেপাশের জেলা থেকে ঢাকায় আসা রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে বেশি। তার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকা ও রোগী শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসাই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ঢাকার পরই মানিকগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারপরই আক্রান্তের দিক থেকে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, পিরোজপুর জেলার নাম। এর মধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলায় গত এক মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলছে। চলতি বছর জেলাটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৯৩ আর মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৫৮ জন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৬৬ আর মৃত্যু হয় ছয়জনের। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ১৬৬ এবং মৃত্যু হয় তিনজনের। মার্চে আক্রান্ত ১১১ হলেও মৃত্যু ছিল শূন্য। এপ্রিলে আক্রান্ত ১৪৩ এবং মৃত্যু হয় দুজনের। মে মাসে আক্রান্ত এক হাজার ৩৬; মৃত্যু হয় দুজনের। জুন মাসে আক্রান্ত পাঁচ হাজার; মৃত্যু হয় ৩৪ জনের। জুলাইয়ে আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন; মৃত্যু হয় ২০৪ জনের। আগস্টে আক্রান্ত ৭১ হাজার ৯৭৬ জন এবং মৃত্যু হয় ৩৪২ জনের। সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ৭৯ হাজার ৫৯৮ জন; মৃত্যু হয় ৩৯৬ জনের।
চলতি অক্টোবরে সর্বশেষ তথ্য অনুসারে আক্রান্ত ৬০ হাজার ৬৫৬ এবং মৃত্যু হয় ৩২৮ জনের। এ তথ্য শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নেয়া রোগী রয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবের বাইরে। মানিকগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আমার সংবাদের এ প্রতিবেদক কথা বলেন মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও বর্তমানে অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। আমাদের এখানে ওষুধ, নার্স ও ডাক্তারের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা রোগীদের আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। তাছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে।
কীটতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তার সঙ্গে কথা বলেন আমার সংবাদের এ প্রতিবেদক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আমাদের দেশে এখন সারা বছরই থাকবে; হয়তো কখনো বাড়বে, কখনো কমবে। বর্ষাকালে বেশি থাকবে, শীতকালে কম থাকবে— এমনই হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ঢাকার আশেপাশে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে, তাই ডেঙ্গু বেশি ছড়িয়েছে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোতে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন