- ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাতে ডিএফপি এখন তথ্য ও জনসচেতনতার কেন্দ্র
- প্রামাণ্যচিত্র, বই, পোস্টার, ফোল্ডারসহ নানা মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করে বহুমুখী প্রচারমাধ্যম ডিএফপি
- পত্রিকার নিবন্ধন, নিরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংবাদপত্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে
- বিভিন্ন কনটেন্ট বিদেশেও প্রদর্শিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি ও সুনাম বাড়াতে কাজ করছে সংস্থাটি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার ও জনগণকে সচেতন করার অন্যতম দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সরকার পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নানাবিধ জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংস্থাটি। প্রামাণ্যচিত্র, ডকুড্রামা, ফিচার ফিল্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকাশনা ডিএফপির নিরলস কাজের ফল।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) সরকারের তথ্য প্রচার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও সংস্থাটি তার কর্মপদ্ধতি ও দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সংস্থাটি যেমন সুনামের সঙ্গে কাজ করছে, তেমনি নতুন বাংলাদেশ গঠনের অভিযাত্রায়ও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
বলা যায়, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর দেশের তথ্য সম্প্রচারের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। মহাপরিচালক, পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শক সবাই নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যেন রাষ্ট্রের নীতি, উন্নয়ন ও জনগণের প্রয়োজনীয় বার্তা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর হচ্ছে সরকারের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত ও সরবরাহে নিয়োজিত প্রধান প্রতিষ্ঠান। এই অধিদপ্তর চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, নিরীক্ষা, নিবন্ধন এবং প্রশাসন অনুবিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, তথ্য প্রচার ও গণসচেতনতা সৃষ্টি। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি, পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা প্রতিটি খাতেই সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও প্রচারণা সামগ্রী তৈরি করে থাকে।
সরকারি নীতিমালা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে অধিদপ্তরটি প্রামাণ্যচিত্র, টেলিভিশন ফিলার, ডকুড্রামা প্রভৃতি অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণ করে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বই, পত্রিকা ও অন্যান্য প্রকাশনা প্রকাশের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম এবং দেশের উন্নয়ন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে জাতিকে সচেতন ও মননশীল করে তুলতে কাজ করে।
ডিএফপি নিয়মিতভাবে তিনটি প্রকাশনা সচিত্র বাংলাদেশ, নবারুণ এবং বাংলাদেশ কোয়ার্টারলি প্রকাশ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাডহক প্রকাশনার মাধ্যমে উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশও এর অন্যতম কার্যক্রম।
নিয়মিত প্রকাশনা সচিত্র বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং চলমান উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী প্রকাশনা নবারুণ প্রকাশ করে এ অধিদপ্তর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ কোয়ার্টারলি।
এছাড়াও পোস্টার, ব্যানার, ফোল্ডার, পুস্তিকা, তথ্যবহুল অ্যালবাম এসব মাধ্যমেও সরকারি নীতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়া হয়। ডিএফপি চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং সমস্যাগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। যেমন- বিভিন্ন ডকুড্রামা ও প্রামাণ্যচিত্র, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও নারীশিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন তথ্যচিত্র।
এসব চলচ্চিত্র ও ডকুড্রামা কেবল দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের পরিচিতি বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে দেশের সংবাদপত্রের বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও পত্রিকার কার্যক্রম, প্রকাশনার মান ও পাঠকপ্রভাব বিশ্লেষণ করে তারা তথ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করে। এর ফলে সংবাদপত্রের মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং তথ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকাশিত দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিকসহ সকল পত্রিকার নিবন্ধন, ছাড়পত্র প্রদান, মিডিয়া তালিকাভুক্তকরণ, সার্কুলেশন যাচাই, নিউজপ্রিন্ট কোটা ও বিজ্ঞাপন হার নির্ধারণে ডিএফপি কাজ করছে নিয়মিত।
এছাড়াও ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সংবাদপত্র খাতে সুশাসন নিশ্চিত করছে এ প্রতিষ্ঠান। সরকারের নীতি-আদর্শ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ডিএফপি এখন হয়ে উঠেছে উন্নয়ন ও সচেতনতা তৈরির একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
ডিএফপি দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির মধ্যে দিয়ে কাজ করছে। এখানে প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং সততার প্রমাণ মেলে। মহাপরিচালক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন। তথ্য ও সম্প্রচার খাত স্বভাবতই অনেক চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যেও ডিএফপি সময়োপযোগী কাজের মাধ্যমে জাতির আস্থা অর্জন করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন সংবাদপোর্টালগুলো মানুষকে ত্বরিত তথ্য সরবরাহ করছে। তাই ডিএফপির চলচ্চিত্র, প্রকাশনা ও প্রচারণাকে আরও আধুনিক, ডিজিটাল এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হবে।
তবে এই চ্যালেঞ্জই ডিএফপিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রামাণ্যচিত্র প্রচার, ডিজিটাল পোস্টার ও ফোল্ডার প্রকাশ এবং ই-পাবলিকেশন চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন