- বিতর্কিত নির্বাচনের দায়ে সাবেক দুই সিইসি এখন কারাগারে
- বর্তমান কমিশনকে সাহস ও মেরুদণ্ড দেখানোর আহ্বান
- সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে পদত্যাগের পরামর্শ
- নারীদের জন্য ৩৩% আসন বরাদ্দের দাবি
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রবাসী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ
- সিইসি নাসির উদ্দিনের প্রতিশ্রুতি— অতীতের মতো হবে না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, বিতর্কিত নির্বাচনের দায়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও নুরুল হুদার পরিণতি। কারাগারে যেতে হয়েছে তাদের। তাই বর্তমান কমিশনকেও সাহস ও মেরুদণ্ড দেখিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা এখনো নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক করতে পারিনি। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতি সবার জানা। আপনারা যদি সাহসী না হন, মেরুদণ্ড না থাকে, তাহলে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন কিংবা সংসদ- কোনো প্রতিষ্ঠানেই মানুষের আস্থা নেই। নির্বাচন কমিশনকেই আস্থা ফেরাতে হবে। পৃথিবীর দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে। স্বচ্ছতা ও সাহস ছাড়া কমিশন টিকে থাকতে পারবে না।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, ‘ইসির প্রতি আস্থা আসবে তখনই, যখন কমিশন নিজেই বুঝবে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না। সম্ভব হলে দায়িত্ব নিতে হবে, সম্ভব না হলে পদত্যাগ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে কিছু দলকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। এতে সেরা নির্বাচনের কোনো দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে না।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘৫৫ বছর পরও নারীদের জন্য মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ আসনের কথা শোনা যাচ্ছে- এটা মেনে নেয়া যায় না। অন্তত ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সেটা এখনই দৃশ্যমান করতে হবে। বড় দলগুলো ভয়ভীতি দেখায়, এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি জারিফ রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অদৃশ্য ভয় কাজ করে। দাগি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ যেন না থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে ফ্যাক্ট-চেকিং ও কুইক রেসপন্স টিম গঠন জরুরি।’
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচন স্বচ্ছ হোক। বিদেশি ও দেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানানো হবে। যত বেশি সম্ভব পর্যবেক্ষক নিবন্ধন দেবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের মতো হবে না। অনিয়ম হলে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা ফিরিয়ে এনেছি। আপনাদের পরামর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন