- ১৯ বছরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে বাবার কবরের পাশে তারেক রহমান
- মোনাজাতে আবেগ আপ্লুত তারেক রহমান চোখ মুছলেন
- এক নজর দেখতে জনতার ঢল, আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে লাগল পৌনে ২ ঘণ্টা
- জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ায় তারেক রহমানের পরামর্শে তার পক্ষে নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি শ্রদ্ধা অর্পণের পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯ বছর পর বিএনপি নেতা হিসেবে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।
এর আগে ২০০৬ সালে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান। শুভেচ্ছা অর্পণের পরে তারেক রহমান সুরা ফাতেহা ও দরুদ পাঠ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোনাজাত শেষ করে বাবার কবরের পাশে কিছুক্ষণ একাকী নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
মোনাজাত শেষে রুমাল দিয়ে নিজের চোখ মুছতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকে। এ সময় তাকে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়। ফের মোনাজাত করতে হাত তুলতে দেখা যায় তাকে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে আসেন তারেক রহমান। এরপর তিনি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মোনাজাতে অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তারেক রহমান জিয়া উদ্যান আসবে এ খবর আগেই জানা থাকায় সকাল ১০টা থেকে সেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে থাকে। জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়।
এদিন বেলা পৌনে ২টা ৫২ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়িবহর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে জিয়া উদ্যানের পথে রওনা দেয়। আগের দিন যে বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি বিমানবন্দর থেকে এসেছিলেন, সেই বাসে করেই তিনি শেরেবাংলা নগরে যান।
লাল-সবুজ পতাকার রঙে সাজানো বাসের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তারেক রহমান কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। বাস ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় পৌনে ২ ঘণ্টা। জাতীয় সংসদ ভবনের পেছনে আগে থেকেই বেইলি ব্রিজ ফটকে অপেক্ষায় ছিলেন খায়রুল কবির খোকন, এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
আশপাশে অবস্থান নেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এ সময় তারেক রহমানের ব্যানার-ফেস্টুন সংবলিত ছবি প্রদর্শন করে নানা স্লোগান দেন তারা। তিনি পৌঁছার পর তাকে একনজর দেখার জন্য নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভিড় করেন।
পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসূচি শেষে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এদিকে সূর্যাস্তের সময় হয়ে যাওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শে তার পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ বেদীতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। কারণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্তস্তবক অর্পণ করা যায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে এটি পরিদর্শন করা যায় যে কোনো সময়। সময় স্বল্পতায় তারেক রহমান পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করে ঢাকা ফিরেন।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায়, ডক্টর আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল (অব) ফজলে এলাহী আকবর ও কান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানিসহ আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত, দেড় যুগের দীর্ঘ নির্বাসন ভেঙে অবশেষে বৃহস্পতিবার দেশের পৌঁছান বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
শাহজাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে এবং আলিঙ্গনে-করমর্দনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। পরবর্তীতে লাখো জনতার সংবর্ধনা পান তিনি। ৩০০ ফিটে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন