রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ অর্থ লুটের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) থানা পুলিশ।
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ রানা এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-শহিদুল ইসলাম মাঝি (৬০), আব্দুল মালেক (৫৫), মনির হোসেন (৪৫), ইউসুফ কাজী (৬৫), রাইসুল ইসলাম (৩৪), আরিফুল ইসলাম (৩৪), আফজাল হোসেন (৩০), তিন্নাথ পাল (৩৮) ও রিপন পাল (৩৬)।
মাসুদ রানা জানান, গত ২৭ মে কোরবানির ঈদের আগের রাতে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড় এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবস্থাপক ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়।
পরে ভুক্তভোগীদের কাছে অবৈধ মাদক রয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীদের কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় মামলা হয়।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আরও জানান, তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল গত শনিবার সকালে ইত্তেফাক মোড় এলাকায় পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ডিবি জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ওয়াকি-টকি, এক জোড়া হাতকড়া, দুটি লাঠি ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের মধ্যে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রির ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাসুদ রানা বলেন, পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ওয়ারী থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধার ও চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন