বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন কোনো ধরনের সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেজন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দা শাখাও (ডিবি) এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

ডিবি প্রধান জানান, রাজধানীর যেসব স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে, ডিএমপির সব থানাকে তা শনাক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য থানা-পুলিশ এবং ডিবি- উভয় পক্ষের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

একই সাথে নগরবাসীর প্রতি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আনন্দ যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা যেন বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবেই। নিজের দলের জয় অবশ্যই উদযাপন করবেন, তবে অন্যের মত ও সমর্থনের প্রতিও সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

মূলত গত বুধবার রাতে রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি জানাতেই এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। পুলিশ জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলে একটি দলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজাচ্ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জেরে গত বুধবার রাতে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় বিএনপির ইউনিট সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমান নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, রিপন নিজেই বাদশাকে সরাসরি ছুরিকাঘাত করেছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া রিপন ও নিরব আপন ভাই এবং মজনু তাঁদের বাবা।

এই হামলায় গুরুতর আহত স্থানীয় বিএনপির ইউনিট সভাপতি এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেএইচআর