ছুটি ছাড়াই আমেরিকায় দুই সহকারী শিক্ষক

মেহেদী হাসান মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২২, ০৪:৪০ পিএম
ছুটি ছাড়াই আমেরিকায় দুই সহকারী শিক্ষক

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’জন সহকারী শিক্ষক। তারা দু’জনই আমেরিকায় আছেন। এর মধ্যে একজন ২ দিনের ছুটি নিয়ে অন্যজন কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই বছরের পর বছর অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে শিক্ষক সংকটে বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় দ্রুত পদ শূণ্য করে শিক্ষক পদায়নের দাবি তাদের।

শিক্ষকদ্বয় হচ্ছেন খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া সুলতানা। অপরজন একই ইউনিয়নের দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজিনা খাতুন। সুমাইয়া খাতুন ১৭ মার্চ, ২০২০ তারিখের পর থেকে তিনি ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের ৮ এবং ৯ তারিখ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে যান নাই রোজিনা খাতুন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া সুলতানা বিগত ১৮ জানুয়ারী, ২০১৬ তারিখে চাকরিতে যোগদান করেন। অপরদিকে একই ইউনিয়নের দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রোজিনা খাতুন গত ০৩ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে চাকরীতে যোগদান করেন। অনুপস্থিতের মাস থেকেই তাদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। উভয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপগ্রহণ করা হয়েছে।

খালিয়া মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই সুমাইয়া সুলতানা ১৭ মার্চ, ২০২০ তারিখ থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত আছেন। পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছি তিনি আমেরিকা আছেন, তিনি আর চাকরি করবেন না। তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে, পদ শূণ্য হওয়ার অপেক্ষা মাত্র।

দেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ২ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে আর বিদ্যালয়ে আসে নাই। পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি আমেরিকা গেছেন। তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে, একাধিকবার তদন্তও হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিদ্যালয় দুটির একাধিক শিক্ষক বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি না দিয়ে কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা গুরুতর অন্যায়। শুধু বিদ্যালয়ই নয়, এটা শিক্ষার্থীদেরও ক্ষতি করা। অব্যাহতি নিলে দ্রুতই পদ শূণ্য স্বাপেক্ষে শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু বিধিমোতাবেক বরখাস্ত হতে তো দীর্ঘমেয়াদী বিষয়। শুধু চাকরী থেকে বরখাস্ত নয়, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল হক বলেন, ছুটি ছাড়াই সুমাইয়া সুলতানা এবং রোজিনা খাতুন নামে দু’জন শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এরই মধ্যে একাধিক তদন্তও হয়েছে। জানতে পেরেছি তারা আমেরিকা রয়েছেন। খুব শীঘ্রই পদ দুটি শূণ্য ঘোষণা করা হবে এবং শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, সহকারী শিক্ষক সুমাইয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত বরখাস্ত হবে। রোজিনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন, এখনো প্রতিবেদন পাইনি। প্রতিবেদন পেলেই বিধিমোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

কেএস