এক বছরেও সন্ধান মেলেনি নেয়ামতের

ঝালকাঠি প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২২, ০৩:৫৬ পিএম
এক বছরেও সন্ধান মেলেনি নেয়ামতের

ঝালকাঠির বিষখালী নদীর আকস্মিক ভাঙনে "দেউরী সাইক্লোন শেল্টার ভবনের সাথে নদী গর্ভে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের এক বছরেও সন্ধান মেলেনি। সন্তানের লাশটি পর্যন্ত না পেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুতী জানিয়ে বছর পাড় করছে নিখোঁজ স্কুল ছাত্র নেয়ামত উল্লাহর পরিবার।

ঘটনার দিন ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর সারে ১২টা। সদর উপজেলার পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী সাইক্লোন সেল্টার সংলগ্ন আধাপাকা মসজিদ বিষখালী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। তখন তিনতলা সাইক্লোন শেল্টারের নীচে দাড়িয়ে মোবাইলে ফেসবুক লাইভে দিচ্ছিল নেয়ামত উল্লাহ।

মুহূর্তেই এল আকৃতির সাইক্লোন শেল্টার ভবনটির একাংশ ভেঙ্গে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আর ভেঙ্গে পড়া ভবনের ছাদের নীচে চাপা পড়ে তলিয়ে যায় নেয়ামত উল্লাহ। পোনাবালিয়া  ইউনিয়নের আফসার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মো. নেয়ামত উল্লাহ (১৬)। ঘটনার এক বছর পাড় হলেও নির্ণয় করা যায়নি ধ্বংসস্তূপের কোথায় আছে নেয়ামতের দেহ।  

সস্তান হারা মা-বাবা আজো নেয়ামতের সন্ধানে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের ধারনা সন্তানের পড়নের জামা প্যান্ট হয়তো একদিন ভেসে উঠবে। বিষখালীর তীরে যখনই যায় তখনই অপলক দৃষ্টিতে পানির দিকে তাকিয়ে থাকে নেয়ামতের মা। তার ভাষ্য পুরো নদীটাই তার সন্তানের কবর।

সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী কে.এম খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর সারে ১২ টায় বিষখালীর ভাঙনে নদীগর্ভে তলিয়ে যায় দেউরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ও একটি আধাপাকা মসজিদ। তখন ভবনের নিচ তলায় ভাঙনের দৃশ্য ভিডিও করছিল অনেকে। ভবনটি যখন দেবে যায় তখন সবাই দৌড়ে নিরাপদে সরতে পারলেও ছাদের নীচে চাপা পরে নদীতে তলিয়ে যায় নেয়ামত।

নেয়ামতের বাবা আব্দুল বারেক ও ভাই মো. ফায়জুল্লাহ শামীম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মত এদেশে আর কারো মৃত্যু যেনো না হয়, সেজন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই। সরকার যেনো ভবন নির্মাণের সময় স্থান নির্ধারণ ও ভবনের গুনগত মানের দিকে নজর দেন। দেউরী সাইক্লোন শেল্টারের ভবন নির্মাণের সময় স্থান নির্বাচন ভুল ছিলো। যার খেসারত আজ আমরা দিয়েছি।

স্থানীয়রা জানায়, নির্মাণের সময় ঝুঁকিপূর্নভাবে বিষখালির ভাঙনের মুখে ছিল ভবনটি। বেজমেন্টে মাটি সরে যাওয়ায় এটি এখন শুধু মাত্র পিলারের উপর দাঁড়ি আছে। বাকি অংশ যে কোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।

আমারসংবাদ/এসএম