ডেপুটি স্পীকারের অভিনন্দন পাওয়া বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

মাসুম বিল্লাহ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ০৩:০৩ পিএম
ডেপুটি স্পীকারের অভিনন্দন পাওয়া বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের কুঞ্জমহিপুর দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২২ এর ফলাফলে পাস করতে পারেনি একজন পরীক্ষার্থীও। অথচ ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলার ৩৫টি শতভাগ পাশ হওয়া বিদ্যালয়ের তালিকাতেও ছিল এই প্রতিষ্ঠানের নাম। এমন সাফল্যে ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি অর্জনও করেছিল জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকারের অভিনন্দন পত্র। কিন্তু এমপিওভুক্ত হওয়ার বছরেই প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলে হতাশ শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট নিজেরাও।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, কুঞ্জমহিপুর দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জেনারেল শাখার পাশাপাশি রয়েছে ভোকেশনাল শাখাও। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেনারেল শাখা থেকে অংশ নেয় মানবিক বিভাগের ৩ জন শিক্ষার্থী। সোমবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে তাদের ৩ জনের কেউই পাশ করতে পারেনি। তাদের মধ্যে দুইজন আত্মকর্মস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে আর অপরজন ইংরেজিতে ফেল করছেন।

বিদ্যালয়ে এই ব্যাচের ২০১৯-২০ সেশনে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ৩০ জন শিক্ষার্থী। পরে ২০২১ সালের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করে ২২জন। তার মধ্যে থেকে ২০২২ এর পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৩ জন। যারা ৩ জনেই অকৃতকার্য হয়। অথচ ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলার ৩৫টি শতভাগ পাশ হওয়া বিদ্যালয়ের তালিকাতে এই প্রতিষ্ঠানটিরও নাম থাকায় পেয়েছিল জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার অভিনন্দন পত্রও। অপরদিকে ভোকেশনাল শাখা থেকে সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দশজনের মধ্যে পাশ করে সাতজন শিক্ষার্থী। ২০১৯-২০ সেশনের এই পরীক্ষার্থীদের ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে ২০২২ সালে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুঞ্জমহিপুর দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দুটি শাখায় শিক্ষক-কর্মচারির সংখ্যা ৩৩ জন। এর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ও কারিগরি (ফুড এন্ড ভেজিটেবল ও কম্পিউটার এন্ড  টেকনোলজি ট্রেড) শাখায় শিক্ষার্থী রয়েছে ২৪৫ জন। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ সেশনে জেনারেল শাখা থেকে ৪২ জন ও ভোকেশনাল শাখা থেকে ৩৪ জনসহ মোট ৭৬জন রেজিস্ট্রেশন করলেও ২০২২ এর এসএসসি ও সমমানের বোর্ড পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে উভয় শাখার ২৪ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টি  উচ্চ মাধ্যমিক হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসলেও চলতি বছরেই নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়।

কুঞ্জমহিপুর দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ আমার সংবাদকে বলেন, পরীক্ষার্থীদের এমন ফলাফলে আমরা নিজেরাও হতাশ হয়েছি। আমাদের বিদ্যালয় থেকে বরাবরেই শতভাগ পাশ করে। এজন্য আমরা অভিনন্দনও পেয়েছি। আর এবার আমাদের এই দুর্ভাগ্যর জন্য কিছুটা দায়ী মহামারি করোনা। তবে, আমাদের বিদ্যালয়টি এই বছরের জুলাইয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে। আশা করি আগামীতে ভাল কিছু হবে। এই ফলাফলের প্রভাব আগামীতে পরবেনা বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রোকসানা বেগম আমার সংবাদকে বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল সত্যিই হতাশার এবং দুঃখজনক। আমি নতুন, মাত্র কয়েকদিন আগে জেলায় যোগদান করেছি। এমন ফলাফলের পিছনে করোনা অনেকটাই দায়ী। তবে, আমপ প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে, সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো।

এসএম