হোসেনপুরে বর্ষা এলেই বেড়ে যায় চাঁই কারিগরদের ব্যস্ততা

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৩, ০৫:৪৯ পিএম
হোসেনপুরে বর্ষা এলেই বেড়ে যায় চাঁই কারিগরদের ব্যস্ততা

বর্ষা মানেই বৃষ্টির পানিতে খাল-বিল থৈ থৈ। আর এ বর্ষার পানিতে দেশীয় মাছ ধরতে ব্যবহূত হয় নানান ধরনের ফাঁদ। গ্রামের খালে বিলে মাছ ধরার সবচেয়ে জনপ্রিয় ফাঁদ হলো চাঁই।

বর্ষা এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের চাঁই কারিগরদের। দিনরাত চলে চাঁই তৈরির মহাউৎসব। সরেজমিনে উপজেলার মধ্য শাহেদল, কুড়িমারা, গলাচিপা, রহিমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মাছ ধরার চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী ও পুরুষরা। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছে ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

চাঁই তৈরির প্রধান কাঁচামাল বাঁশ। বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা তুলে সেগুলো রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। তারপর শুরু হয় চাঁই তৈরির কাজ। মাছ ধরতে চাঁই খাল, বিল কিংবা ডুবে যাওয়া ফসলি ক্ষেতে পেতে রাখা হয়।

উপজেলার মধ্য শাহেদল গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ী হাদিস মিয়া বলেন, ২০-২৫ বছর ধরে চাঁই তৈরি করে আসছি। চাঁইগুলো আমরা কুলিয়াচর, কটিয়াদি, পুলের ঘাট, সরারচরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের জায়গায় বিক্রি করে আজ স্বাবলম্বী।

কুড়িমারা গ্রামের কেরামত আলী জানান, ছোট কাল থেকেই বাপ দাদার এ পেশা ধরে রেখেছি। চাঁই বিক্রি করে পারিবারিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। চাঁই বিক্রি করে দুই সন্তানকে ইতালি পাঠিয়েছি। তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। করোনা ও লকডাউনে বাজারে ক্রেতা না থাকায় ও অনাবৃষ্টি হওয়ার বিক্রি করতে পারছেন না তাদের তৈরিকৃত চাঁই।

স্থানীয়দের ধারণা, দেশীয় এ কুটির শিল্প কারিগরদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা ও ক্ষুদ্র ঋণই এগিয়ে নিতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতিকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, চাঁই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি কুটির শিল্প। এ অর্থবছরে প্রান্তিক এসব কুটির শিল্প কারিগরদের প্রণোদনা দিয়ে সাহায্য করা হবে।

এইচআর