গাংনীতে পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছে না

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৩, ০৮:১৭ পিএম
গাংনীতে পানির অভাবে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছে না

আষাঢ় মাস শেষ শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি চলছে বর্ষাকাল। নেই রিমঝিম বৃষ্টি। মাঝেমাঝে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেলেও মিলছে না বৃষ্টির দেখা। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। এখন পর্যন্ত খালবিলে পানি জমতে শুরু করেনি। পাট পরিপক্ষ হয়ে উঠেছে ।

পানির অভাবে নিরুপায় হয়ে কিছু সংখ্যক কৃষক ডোবা-নালা ও পাটের কিছু জমিতে গর্ত করে শ্যালো মেশিনে পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে শুরু করেছে। বাড়তি খরচ হওয়ায় লাভের তুলনায় ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকের। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। দামও বেশ ভাল। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে পাটচাষীদের কপালে পড়তে শুরু করেছে চিন্তার ভাঁজ। তবে কৃষি অফিস বলছে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে।

গাংনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার চাষের শুরুতে চাষীদের বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলা ও বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। প্রচন্ড তাপ ও খরার সময়ে আবারো সেচ দেওয়ায় খরচ তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে। এ উপজেলায় বিজেআরআই তোষাপাট-৮ ও ইন্ডিয়া গুটি জেআরও- ৫২৪ পাটের চাষ করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে চরম অসুবিধা হচ্ছে চাষীদের।

বর্তমানে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি ফলে খালবিলে পানি না জমায় পাট জাগ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে পাটচাষীরা।

উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মহাম্মদপুর গ্রামের পাটচাষী মাঝারুল ইসলাম  জানান, এবার চার বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হবে বলেও আশা করছেন তিনি। কিন্তু পানির অভাবে এখন পর্যন্ত পাট জাগে দিতে পারেননি। তিনিসহ আশেপাশের আরো কয়েকজন চাষী পাট কেটে বাড়ির পাশে গাঁদা দিয়ে রেখেছেন। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা নদী সেখানে পানি কম তার পরেও সেখানে মাছ চাষ করা মালিকানাধীন বেশী পানি হলে সেখানে পাট জাগ দিতে দিবে।  প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টি হলেই পাট জাগে দিবেন এ অপেক্ষাতেই সময় পার করছেন চাষীরা একই কথা জানান মেহেরপুরের  গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দ পুর  গ্রামের পাটচাষী মশিউর রহমান।

উপজেলার মহাম্মদপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী মহাসিন বলেন, গেল মঙ্গলবার  হাটে প্রায় ১২ মণ পাট ক্রয় করা হয় । প্রতি মণ পাট ক্রয় হয়েছে এক হাজার নয় শত টাকা থেকে দুই হাজার  টাকা দরে।

গাংনী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, এ উপজেলায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে তবে সাগরের নিম্ন চাপের উপর নির্ভর করবে। 

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাট জাগে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে পাটের ছাল বা বাকল কাঁচা পাট গাছ থেকে আলাদা করার পর অল্প পানিতে পচানো হয়। অর্থাৎ কাঁচা পাট গাছ থেকে ছাল বা বাকল আলাদা করার পর ঐ ছাল বা বাকলকে যে পদ্ধতিতে অল্প পানিতে পচানো হয়, তাকে রিবন রেটিং বলা হয়। এ রিবন রেটিং পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে কতটুকু সাড়া ফেলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে চাষীদেরকে সচেতন করা হচ্ছে।

আরএস