কক্সবাজার পৌরসভা

উচ্ছেদের প্রথম দিনেই শতাধিক স্থাপনা ও মোটরসাইকেল জব্দ

রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৩, ০৬:৫৮ পিএম
উচ্ছেদের প্রথম দিনেই শতাধিক স্থাপনা ও মোটরসাইকেল জব্দ

পর্যটনের শহর কক্সবাজারের আদালত প্রাঙ্গনসহ শহরের ফুটপাত অবৈধ দখলকারীদের দখলে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ থেকে মুক্ত করতে নির্বাচনী ইশতেহার ও পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা প্রশাসন। উচ্ছেদ‍‍`র প্রথম দিনে শতাধিক স্থাপনা ও মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে৷

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গন থেকে হাসপাতালের সড়ক, ভোলাবাবুর পেট্টোলপাম্প, পুরাতন পান বাজার সড়ক, কৃষি অফিস সড়ক, প্রধান সড়কের ফজল মাকের্ট এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়৷ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী ৷

উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে মাত্র ২ ঘন্টায় উচ্ছেদ করা হয়েছে শতাধিক স্থাপনা। একই সঙ্গে রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে থাকা সাইনবোর্ড ও অবৈধ পার্কিং করা অর্ধ-শত মোটর সাইকেল জব্দ করে পৌরসভায় নিয়ে আসা হয়।

এসময় মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন,গত দুই  দিন ধরে পুরো শহরের মাইকিং করে সকল প্রকার অবৈধ দখলদারদের স্বেচ্ছায় দখল ছেড়ে দেয়ার আহবান-অনুরোধ জানিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তারপরও সরিয়ে না নেয়ায় এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের প্রথম দিন অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হাসপাতাল এলাকাকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে। এখানে প্রতিদিন অসংখ্যা রোগী আসা-যাওয়া। চিকিৎসা নিতে আসা মূমুর্ষ রোগীও আসেন। এই সড়কটির উভয় পাশের ফুটপাত দখল করে দোকান, গাড়ি পাকিং, এ্যাম্বুলেন্স পাকিং এর কারণে সাধারণ মানুষও চলাচল করতে পারে না। এসব সরিয়ে নেয়া হল।

অভিযান অব্যাহত রাখা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, পৌরসভার সকল নালা-নর্দমা, জমিও দখল মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে উচ্ছেদ করার পর নতুন করে যাতে দখল না হয় তার জন্য ৩ টি মনিটরিং কমিটি করা হয়ে।

যখন দখল তখন উচ্ছেদ চালানো হবে। প্রয়োজনের সন্ধ্যা ও রাতে চলবে এ অভিযান। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের প্রথম দফার অভিযান শেষে দ্বিতীয় সন্ধ্যার পর আবারও অভিযান করা হবে বলে জানান মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী৷

এসময় পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার সালাম, প্যানেল মেয়র-১ সালাউদ্দিন সেতু, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও এহেসান উল্লাহ, পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক কবির হোসাইনসহ পৌরসভার পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার সালাম জানান, অভিযানে জব্দ করা মোটর সাইকেল সংশ্লিষ্ট আইনে জরিমানা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে পুণ:রায় একই অপরাধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, দীর্ঘ বছর পরে হলেও পৌর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পৌরবাসি।

এআরএস