রাখাইন নোথা অং হত্যা মামলার আসামিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনা প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৩, ০২:০১ পিএম
রাখাইন নোথা অং হত্যা মামলার আসামিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনার তালতলীতে রাখাইন নোথা অং হত্যা মামলার আসামি শহিদুল ডাক্তারসহ সকল খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজাতী রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাসহ স্থানীয় বাঙালিরা।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তালতলী উপজেলার তাঁতীপাড়া বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নোথা অং হত্যা মামলার বাদী  জোওয়েন জয়, রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মংচিন থান, খেচিং মং এবং মং থান চো। বক্তারা বলেন, নোথা অং কে জমির জন্য নৃশিংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।  এই হত্যা মামলার বয়স ৬ বছর হলেও আজ পর্যন্ত সিআইডি চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়নি। এই মামলার অন্যতম আসামি শহিদুল ডাক্তার জামিনে বেরিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমি গ্রাস করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যাসহ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে তাঁদের জমি থেকে বিতাড়িত করছে। রাখাইনদের সমাধি ও ফসলি জমি জাল-জালিয়াতি করে দখল করে নিচ্ছে। ফলে নিঃস্ব অনেক আদিবাসী রাখাইন সদস্য পরিবার নিয়ে নীরবে দেশ ছেড়েছেন। এখনো যাঁরা পিতৃভিটা আঁকড়ে আছেন, তাঁরাও চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। নোথা অংয়ের এই হত্যাকান্ডের পর রাখাইনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শহীদুল ডাক্তারসহ এই হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে বের হয়ে শহিদুল ডাক্তার গংরা আবারও রাখাইনদের জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত সাজা ঘোষণা না হলে আদিবাসীদের সম্পত্তি ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা অসম্ভব।

গত ২০১৭ সালের ২২ জুন তালতলী উপজেলার নামিশেপাড়া থেকে রাখাইন বৃদ্ধ নোথা অংয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে তালতলী থানার পুলিশ। ঘটনার দুইদিন পর ২৪ জুন তাঁর আত্মীয় জোওয়েন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তালতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তীতে আদালত এ মামলা সিআইডি পুলিশের কাছে দায়িত্ব প্রদান করেন। সিআইডি পুলিশ পরবর্তীতে অজানা কারণে ৬ বছর পার হলেও সিআইডি পুলিশ এখনো চুরান্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তাই আমাদের দাবি দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দিয়ে আসামীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এবিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় একটু সময় হয়েছে। আরও পরিচ্ছন্ন তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র তৈরি করে দ্রুত আদালতে দাখিল করা হবে।

এআরএস