এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন কেন্দ্রে ভাঙচুর করল একদল ছাত্র

ঝালকাঠি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৪, ১০:৪৮ এএম
এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন কেন্দ্রে ভাঙচুর করল একদল ছাত্র

ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি ও বাথরুম ভাঙচুর করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে সরকারি লক্ষাধিক টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। 

কেন্দ্র সচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা এএসএম মাসুম বিল্লাহ। এ বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে এড়িয়ে যান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর কক্ষে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩২৪৫৯থেকে ২৩২৪৭৩ পর্যন্ত রোল নম্বরধারী ১৫ জন এবং উদ্বোধন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৩২৬০৫থেকে ২৩২৬২৯ পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। 

ওই কক্ষের চারটি বৈদ্যুতিক পাখা, ৩টি টিউব লাইট এবং কক্ষ সংলগ্ন প্রসাধন রুমে ৬টি ওয়াশরুম/বাথরুমের দরজা, ফ্লাশ প্যান, কমট ভাঙচুর করে। ২০৫ নম্বর কক্ষে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩২৪২৮থেকে ২৩২৪৪৩পর্যন্ত রোল নম্বরধারী ১৬ জন এবং পৌর আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪২৫১৪থেকে ২৪২৫২৮পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই কক্ষের দুটি বৈদ্যুতিক পাখা এবং ২টি টিউব লাইট ভাঙচুর করে তারা।

বিদ্যালয়ের কর্মচারী (আয়া) মাকসুদা বেগম জানান, পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা হৈ হুল্লোর নেমে যায়। পরে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি সব ভাঙাচোরা। তখন স্যারেরা দায়িত্ব পালন শেষ করে চলে গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণের কাজ শেষ হলে উত্তরপত্র জমা নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বের হবার পরে কক্ষ পরিদর্শক বের হবার কথা। তাহলে কক্ষ পরিদর্শক কি স্টুডেন্ট (পরীক্ষার্থী) কক্ষে রেখে উত্তরপত্র নিয়ে বের হয়ে গেছেন? 

কর্মরতরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে সরকারি সম্পদের এতো বড় কোন ক্ষতি হতো না। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) সচিব মাসুম বিল্লাহকে প্রশাসনকে জানানোর জন্য বললে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। বললে আরো ঝামেলা বাড়বে।

বিদ্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ কালে সংবাদ পেয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব মাওলানা এএসএম মাসুম বিল্লাহ। তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অস্থির আচরণ করে জানান ‘এবিষয়ে আমি কিছুই বলবো না। যা বলার প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব বলবেন।’ বলেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে থেকে চলে যেতে প্রস্তুতি নেন। সাংবাদিকরাও পিছু নিলে তিনি একটি রুমে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেন।

কেন্দ্র সচিব এবং ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আমি ছুটিতে আসছি। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন মাসুম বিল্লাহ স্যার। তবে ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম জানান, বিষয়টি শুনেছি। গুরুত্বসহকারে দেখছি।  

এইচআর