ইঞ্জিন-পাইলটের সংকট: চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিশেষ ট্রেন বন্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৪, ১০:৪৩ এএম
ইঞ্জিন-পাইলটের সংকট: চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিশেষ ট্রেন বন্ধ!

একদিকে ইঞ্জিন সংকট, অন্যদিকে লোকো মাস্টারও (পাইলট) নেই। এসব কক্সাবজার-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী একমাত্র ও বিশেষ ট্রেনটি আজ থেকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) থেকে ট্রেন বন্ধ রাখতে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে (ডিআরেএম) চিঠি দিয়েছে রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগ। ফলে বুধবার (২৯ মে) শেষবারের মতো ট্রেনটি চলাচল করে।

রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ক্রু সংকটের কারণে ট্রেনটি বন্ধ রাখাতে চিঠি পেয়েছি। ৩০ মে থেকে ট্রেনটি বন্ধ থাকবে।’

রেলওয়ের পরিবহণ ও যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলের বন্ধ থাকা অর্ধশতাধিক ট্রেনসহ মোট ২০০ ট্রেন পরিচালনায় ৩০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন। কিন্তু আছে ১৫৬টি ইঞ্জিন। এরমধ্যে আবার ১০০টি ইঞ্জিনও সচল নেই। তবে বর্তমানে ১১৬টি চাহিদা রয়েছে।

অন্যদিকে, রেলের দুই অঞ্চলের লোকোমাস্টার (এলএম), সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) ও সাব লোকোমাস্টার (এসএলএম) পদের সংখ্যা ২,২৩৬টি। বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫০ জন, যা ট্রেন চালানোর কাজে নিয়োজিত জনবলের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৩৮ শতাংশ।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত ৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেনটি চালু করেছিল কর্তৃপক্ষ। যাত্রী চাহিদা ও স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ট্রেনটির ৩০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। কিন্তু চালুর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল ট্রেনটি।

প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০১ কিলোমিটার রেলপথ গত বছরের ১১ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ডিসেম্বর থেকে দুই ধাপে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে দুটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে রেলওয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চালু না হওয়ায় সমালোচনা মুখে প্রতিটি ট্রেনের দুটি কোচের মাত্র ১১০টি আসন চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চাহিদা ও দাবির প্রেক্ষিতে গত ৯ মে ডিআরএমের দফতর থেকে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দফতরে বিশেষ ট্রেনটি নিয়মিত চালুর প্রস্তাব পাঠানো। একটি ট্রেনকে দুই ট্রিপ অর্থাৎ দিনে দুইবার যাতায়াতের কথা বলা হয় প্রস্তাবে।

গত ৮ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত মোট ২৫ দিনে (৩ দিন চলাচল বন্ধ ছিল) ৫১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬২ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রস্তাবে।

নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়নি জানিয়ে ডিআরএম সাইফুল ইসলাম জানান, প্রস্তাবটি বর্তমানে রেল ভবনে রয়েছে।

বিআরইউ