মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ শতাধিক রোগী আউটডোরে সেবা নিতে আসেন এবং ৭০-৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন, তবে চিকিৎসক ও সেবাকর্মী সংকটে রোগীদের সেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, ইমারজেন্সি বিভাগে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি রোগী সেবা পেতে আসলেও, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন মেডিকেল অফিসার, ৬ জন সহকারী সার্জনসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, তবে বর্তমানে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদেও শূন্যতা রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, মালী, ওয়ার্ডবয় ইত্যাদি শূন্য থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ছে, যা রোগীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অনেক সময় বাইরে থেকে ভাড়া করা কর্মী দিয়ে কিছুটা কাজ চালানো হলেও, তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় হাসপাতালের সেবার মানে বিশাল পরিবর্তন আসছে।
শালিখা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের সোহানা খাতুন বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা পড়ে থাকে এবং সেখানে বসে রোগীরা ময়লা মাছির সম্মুখীন হন, যা নতুন রোগের আশঙ্কা তৈরি করছে।’
শতখালী ইউনিয়নের আক্কাস আলী বলেন, ‘এখানে চিকিৎসক সংখ্যা সীমিত, ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী সেবা নিতে আসেন, তবে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই রোগীদের সেবা দেয়া খুবই কঠিন। অতএব, দ্রুত আরও চিকিৎসক নিয়োগ প্রয়োজন।’
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নেছা বলেন, ‘চিকিৎসক ও কর্মচারী শূন্যতার কারণে সেবা প্রদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাই দ্রুত জনবল নিয়োগের প্রয়োজন।’
বিআরইউ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন