লালন সাঁই ও সাধুগুরুদের জীবনাচারকে প্রাধান্য দিয়ে এবার পালিত হবে মহাত্মা লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস। খাদ্যসেবা থেকে শুরু করে বসা, হাঁটাচলা—সব কিছু তাদের রীতি ও নিয়ম অনুসারে সম্পূর্ণ রিচুয়াল মেনে পালন করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের সার্কিট হাউজ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর, সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া শাখার সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে লালন আখড়াবাড়িতে প্রবেশের সংকীর্ণ ও ভাঙাচুরা সড়ক, ফকির সাধকদের প্রতি অন্যায় আচরণ এবং মাদকের বিস্তাররোধসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা হয়।
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, “ফকির লালন সাঁইয়ের সেবা পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি নিয়ম, একটি বিধান, যা সেবা পদ্ধতির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিম্নমানের খাবার দেওয়া দুঃখজনক। আশা করি এবার সেবাটি সম্পূর্ণ লালনের ঘরের রীতিনীতি মেনে পরিচালিত হবে।”
সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, “এবার অনুষ্ঠানের সবকিছু লালন সাঁই ও তার ভক্তবৃন্দের জীবনাচার অনুযায়ী পালন করা হবে। মেলা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এটি বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি, শত শত বছর ধরে চলে আসছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়েও আমরা আশ্বস্ত।”
মফিদুর রহমান জানান, এবার তিরোধান দিবস জাতীয় পর্যায়ে পালিত হবে। মূল অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ায় ১৭ অক্টোবর শুরু হবে এবং তিন দিনব্যাপী চলবে। এরপর ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন