নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি ও মুক্তিপণ আদায়ের ষড়যন্ত্রে জড়িত শ্রমিক ছাইদুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে (২৫) পুলিশ উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ছাইদুল নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে স্ত্রীকে ইপিজেড থেকে আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং নিখোঁজ হন। বিষয়টি নিয়ে তার পিতা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছাইদুলকে ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ৯টা ২৮ মিনিটে সৈয়দপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাথী ফার্মেসীর সামনে থেকে উদ্ধার করে। অচেতন অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোববার বিকেলে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ছাইদুল কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইপিজেডে শ্রমিকদের উসকানি দিতেই আত্মগোপন করেছিলেন। তিনি এভারগ্রীন কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে ৫ হাজার টাকা গ্রহণের বিষয়ও স্বীকার করেছেন।
ছাইদুল পুলিশকে জানিয়েছে, উত্তরা ইপিজেডের কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদেরও শিগগির গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর উত্তরা ইপিজেডে এভারগ্রীন কোম্পানির শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় ছাইদুল নেতৃত্ব দেন এবং তখন থেকেই শ্রমিক আন্দোলনকে অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশ ইপিজেড এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর সাঈদ, নীলফামারী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম ও জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল-আমিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন