চুয়াডাঙ্গায় সারের কোন ঘাটতি নেই: কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির সুর

তানজিদ সরওয়ার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫, ০৭:৩৮ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় সারের কোন ঘাটতি নেই: কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির সুর

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা চুয়াডাঙ্গা। কৃষি উৎপাদনের দিক থেকে এ জেলা দেশের অন্যতম অগ্রগণ্য জেলা হিসেবে পরিচিত।

জেলার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে বছরের প্রতিটি সময়ে বিভিন্ন প্রকারের ফসলের চাষ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ইরি মৌসুম ও বোরো মৌসুমে ধান চাষ ব্যাপক আকারে হয়, যার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সার প্রয়োজন হয়।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা চুয়াডাঙ্গাকে “কৃষি মাতৃক জেলা” বলে থাকেন। এ জেলার কৃষকরা ধান, গম, ভুট্টা, পাট, শাকসবজি, ডালসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন। তাই এখানে সারের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। 

কিন্তু আশার কথা হলো চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে জেলায় সারের কোন ঘাটতি নেই।

সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত

চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকদের জন্য সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার সরবরাহ করছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলা ও পাঁচটি থানায় নিয়মিতভাবে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে সার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিলার শুভ ট্রেডার্সের গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। খাতা-কলমে হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে কৃষি কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে কৃষকরা সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও সন্তুষ্টি

সাম্প্রতিক এক পরিদর্শন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন— কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি চুয়াডাঙ্গার উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) খামারবাড়ি চুয়াডাঙ্গা মিঠু চন্দ্র অধিকারী, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, দামুড়হুদার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবির, উপ -সহকারী কৃষি অফিসার মুইন নাদিম প্রমুখ।

তারা সবাই একযোগে ডিলারের গোডাউন পরিদর্শন করেন, খাতা-কলম পরীক্ষা করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 

কর্মকর্তারা জানান, সরকার কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দিয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে। তারা এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

এ সময় শুভ ট্রেডার্সের নিজস্ব গোডাউনে সারের সাথে অফিসাররা সবাই মিলে একটি ছবি তোলেন এবং সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।

কৃষকদের অভিমত

দামুড়হুদার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এখানে সারের কোন ঘাটতি নেই। যখন যেটা প্রয়োজন, আমরা ডিলারের কাছ থেকে পাই। ফলে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারি এবং ফসলের ফলনও ভালো হয়।”

এমন অভিমত শুধু নজরুল ইসলামের নয়, আরও অনেক কৃষক একই কথা বলেন। 

তারা জানান, অতীতে কখনও কখনও সার সংকট দেখা দিলেও এখন আর সে অবস্থা নেই। সরকারি তদারকি, স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা এবং ডিলারদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে সারের জোগান নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।

কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের কৃষকরা বলেন, “সরকার যে সারে ভর্তুকি দিচ্ছে, তা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক। বাজারে দাম বেশি হলেও আমরা সরকার নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছি। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ কমে যায়।”

স্থানীয় ডিলার শুভ ট্রেডার্সের মালিক জানান, তিনি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিতরণ করেন। প্রতিটি কৃষককে নির্ধারিত পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে এবং কোনও ধরনের অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয় না। ডিলারের খাতা পরীক্ষা করে কৃষি কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট হন।

কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব

পর্যাপ্ত সারের জোগান নিশ্চিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা সময়মতো সার পেয়ে ধানের জমিতে সঠিক পরিচর্যা করতে পারছেন। এতে ফলন ভালো হচ্ছে এবং কৃষকদের আয়ও বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, “সরকার কৃষকদের হাতে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে সচেষ্ট। এতে ধানের ফলন বাড়ছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষি উৎপাদনে সারের কোন ঘাটতি নেই এটি জেলার কৃষকদের জন্য স্বস্তির সংবাদ। সরকারি তদারকি, ডিলারদের সঠিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ের কাজের ফলে জেলার কৃষকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পাচ্ছেন।

এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চুয়াডাঙ্গা কৃষি উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এইচআর/ইএইচ