বিলুপ্তির পথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের চুনাপাথর

কক্সবাজার প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০১:১৬ পিএম
বিলুপ্তির পথে সেন্টমার্টিন দ্বীপের চুনাপাথর

নির্বিচারে উত্তোলনের ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের চুনাপাথর ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মন কাড়া নিদর্শন নারিকেল জিনজিরা নামে খ্যাত প্রবাল ও চুনাপাথরের জন্য প্রসিদ্ধ বিশ্বের অন্যতম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। প্রতি বছর দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ভিআইপিরা ভ্রমণে আসেন এখানে। ফলে সরকার, জাহাজ মালিক, হোটেল মালিক এবং স্থানীয়দের আয়-উপার্জন বেড়ে যায়। দ্বীপের বালিতে রয়েছে বহু মূল্যবান খনিজ পদার্থ।

গবেষকদের মতে, দ্বীপটিকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে প্রবাল, শৈবাল ও চুনাপাথরসহ প্রাকৃতিক বস্তুকণার গুরুত্ব অপরিহার্য। কিন্তু প্রবাল দ্বীপ থেকে ক্রমাগত প্রবাল, কেয়াবন, চুনাপাথর ইত্যাদি নির্বিচারে উত্তোলন ও ধ্বংসের ফলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ বিলুপ্তির পথে।

এছাড়া দ্বীপজুড়ে যত্রতত্র হোটেল-মোটেল নির্মাণের কারণে পরিবেশেরও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দ্বীপের দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশে সবচেয়ে বেশি চুনাপাথর রয়েছে। তবে পরিবেশকর্মীদের চরম উদাসীনতার কারণেই দ্বীপের এই করুণ অবস্থা বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা। দ্বীপে কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো থাকলেও পরিবেশকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ে না।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রবাল, চুনাপাথর ও কেয়াবনের বিকল্প নেই। চুনাপাথরের জন্য বিখ্যাত সেন্টমার্টিনে কিছু অসাধু ব্যক্তি একসময় চুনাপাথর উত্তোলন করেছিল। বর্তমানে যৎসামান্য চুনাপাথর অবশিষ্ট রয়েছে। এগুলো রক্ষা না করা গেলে দ্বীপের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি চুনাপাথর চিরতরে হারিয়ে যাবে। তবে বর্তমানে আমার দায়িত্বকালীন সময়ে চুনাপাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

জেএইচআর