নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ট্রাক চাপায় দুই শিক্ষার্থীসহ অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী ও চালক নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
কবিরহাট থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, বুধবার সকালে নিহত অটোরিকশা চালক শাহ্ আলম খোকনের ছেলে ফিরোজ আলম আবিদ বাদী হয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আইনে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র আসামি ট্রাক চালক আবদুর জাহেরকে (৪০) মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আবদুর জাহের লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চর সীতা গ্রামের মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযান চালিয়ে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের চিশতিয়া দরবার শরীফের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ দুপুরে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কবিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ফতেহপুরে কবিরহাট ফাজিল মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন।
নিহতরা হলেন, অটোরিকশা চালক শাহ্ আলম খোকন (৪৫), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত খোরশেদ আলমের ছেলে, ইসরাত জাহান (২৩), রামপুর ইউনিয়নের বামনি এলাকার গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে, বিবি কুলসুম (৪৫), মফিজ মিয়ার স্ত্রী, মনি বেগম (২২), দিদারুল আলমের স্ত্রী, সুলতান আহমেদ সুমন (৩৮), চর কাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল হকের ছেলে, তামিম হাসান (২৪), সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ডা: আবুল কাশেমের ছেলে।
এর মধ্যে তামিম হাসান নোয়াখালী সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ইসরাত জাহান একই কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার সময় তারা কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
অন্যদিকে জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহিদুর রহমান তুহিন জানান, নিহত সুলতান আহমেদ সুমন ২০২০ সালের একটি মাদক মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
নিহত বিবি কুলসুম ও মনি বেগম শ্বাশুড়ি ও বৌকে সঙ্গে নিয়ে জেলা শহর মাইজদীতে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ২টার দিকে জেলা শহর মাইজদী থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর বসুরহাট যাচ্ছিল। পথে অটোরিকশাটির সামনের এক্সেল ভেঙে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উল্টো পাশে চলে যায়। এ সময় বিপরীতদিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে কিছুদূরে নিয়ে যায়।
এতে অটোরিকশা চালকসহ তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে আজ মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন