ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ফারুক হোসেনকে (৬৭) থানা পুলিশ আটক করেছে। জানা গেছে, তিনি “আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকার” আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকার মসজিদ বাড়ী সড়কে অবস্থিত তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। ফারুক হোসেন আগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি শহরের হাবেলী গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা, মৃত মো. জাহিদ হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফারুক হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক আমেরিকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ফারুক হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে নিজেই ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পরে গত ২৮ অক্টোবর শামীম হকও নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমার নেত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন আমরা সকলে তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। দলের এই দুর্দিনে সবাই আমরা সভাপতি, আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করবো।” তবে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি দলের অন্যান্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোতয়ালী থানার সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেনের নামে থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
এছাড়া, গত বছরের ১৫ অক্টোবর কোতয়ালী থানায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করেন শহরতলীর মামুদপুর এলাকার মুজাহিদ ইসলাম। মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ, সহ-সভাপতি মো. ফারুক হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০–৪০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, গত ৪ আগস্ট তার মেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়।
এদিকে, গত ৩ নভেম্বর ফারুক হোসেন “মো. ফারুক হোসেন” নামে নিজ ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি নিজেকে “দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি” দাবি করে লিখেছেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সকল থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতিপ্রতিম সংগঠনসমূহ আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। ১০–১১–১২ তারিখে স্ব-স্ব এলাকায় অবস্থান থেকে মিছিল করুন। বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলুন, অবৈধ ট্রাইবুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন হোক।
কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যার দিকে তাকে আটক করা হয়েছে। তাঁর নামে থানায় দুটি মামলা রয়েছে এবং গ্রেফতারের বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শামছুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের ঝিলটুলী এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন