রাজস্ব ফাঁকি ও চা পাচার: তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেল কাস্টমস

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২৫, ০২:৫৯ পিএম
রাজস্ব ফাঁকি ও চা পাচার: তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেল কাস্টমস

রাজস্ব ফাঁকি ও চা পাচারের অভিযোগে পঞ্চগড়ের পপুলার টি ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছে কাস্টমস বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কেজি চায়ের বিপরীতে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

কাস্টমসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১২ বস্তা চা বুকিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে চা। এ ঘটনায় কাস্টমস বিভাগ তদন্ত শুরু করে।

মঙ্গলবার পঞ্চগড় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সার্কেল থেকে পপুলার টি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে শুনানির নোটিশ ইস্যু করা হয়। শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ নভেম্বর এবং লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ শুনানিতে অংশগ্রহণ বা লিখিত জবাবসহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা দিলে, কাস্টমস বিভাগ তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই সুন্দরবন কুরিয়ারে চা পাঠানো এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের একটি তদন্ত দল সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দেবীগঞ্জ এজেন্সি ও পপুলার টি ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে।

তদন্তে জানা যায়, কুরিয়ার এজেন্সি যে নথি দেখিয়েছে তা অবৈধ ও অসম্পূর্ণ। ফ্যাক্টরিতেও সংশ্লিষ্ট চায়ের বৈধ চালান (মূসক ৬.৩) ও ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয় মালিকপক্ষ। পরে বিষয়টি লিখিতভাবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগকে জানানো হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

পঞ্চগড় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সার্কেলের সহকারী কমিশনার খন্দকার সোলায়মান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ১২ বস্তা চায়ের রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়েছে। তবে তদন্ত শেষে পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৯ ডিসেম্বর কাস্টমস বিভাগ অভিযান চালিয়ে কারখানার বাইরে পরিবহনরত অবস্থায় ১৩ হাজার কেজি চা জব্দ করে। তখন জাল নথি ব্যবহারের প্রমাণে ৫ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে, ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চা বোর্ড অবৈধভাবে চা স্থানান্তরের অভিযোগে পপুলার টি ফ্যাক্টরির অনুমোদন ও নিবন্ধন স্থগিত করে কারখানার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে মালিকপক্ষের আবেদন এবং স্থানীয় চাষিদের দুর্ভোগ বিবেচনায় পরে কারখানার কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দেয় চা বোর্ড।

ইএইচ