ফরিদপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বুকে ব্যথাজনিত কারণে কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
মৃত্যু হওয়া ওই ব্যক্তির নাম জাকের মোল্লা (৫১)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। জাকের মোল্লা বিবাহিত এবং তিন ছেলের বাবা।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি হিসেবে গত ১৮ অক্টোবর তাকে হাজতি হিসেবে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে ফরিদপুর-৪ এর অধীনে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন কেটে পাশের ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনতা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলাদায়ের করেন ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদুজ্জামান। ওই মামলায় ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে প্রধান করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং “অজ্ঞাতনামা আরও অনেকে” আসামি করে একটি মামলাদায়ের করেন। এ মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে জাকের মোল্লাকে গত ১৮ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত জাকের মোল্লার ছোট ভাই সোহাগ মোল্লা বলেন, "আমার ভাই এজাহার নামীয় আসামি ছিলেন না। তারপরও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়। অসুস্থ হওয়ার পরও আমাদের জানানো হয়নি। সকালে মৃত্যুর পরে আমাদের খবর দেওয়া হয়েছে।"
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কারাগারের সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, "স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে হাজতি জাকের মোল্লার। তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মারা যান। মৃতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্ত করে পরিবারের সদস্যদের হাতে দেওয়া হবে।"
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন