নাটেশ্বর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর দাবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম
নাটেশ্বর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর দাবি

সোনাইমুড়ী উপজেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ নাটেশ্বর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়কে তার চিরচেনা জৌলুস ও স্ব-গৌরবে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই জোরালো দাবি ওঠে।

১৯৬০ সালে প্রখ্যাত শিল্পপতি আবুল খায়েরের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি একসময় বৃহত্তর নোয়াখালীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একসময়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস এখন নিস্তব্ধ, এমনকি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও আশঙ্কাজনকভাবে নিম্নমুখী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনসিটিবির উপসচিব আবু নাছের টুকু, ইউজিসি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মনির উল্যাহ এবং পিজি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতা উল্যাহ বিপ্লবের মতো কৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা জানান, ২০০৯ সাল পর্যন্ত আবুল খায়ের গ্রুপ সরাসরি বিদ্যালয়টি পরিচালনা করলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ভুল তথ্যের কারণে দাতা পক্ষের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়, যার ফলে থমকে গেছে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন।

স্থানীয় অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অতীতের সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিদ্যালয়ের হারানো মানোন্নয়নে আবুল খায়ের গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের আকুল আবেদন জানান। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তাহেরুল হক মানিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন মিলনসহ আরও অনেক প্রাক্তন ছাত্র ও সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি আবারও দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরে পাবে।

ইএইচ