কুমার নদের পাড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ: উদ্ধারকৃত আইইডি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করল এটিইউ

ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
কুমার নদের পাড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ: উদ্ধারকৃত আইইডি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করল এটিইউ

ফরিদপুর জেলা শহরে উদ্ধার হওয়া রহস্যময় শক্তিশালী বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। 

দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার উৎকণ্ঠা শেষে রোববার সকালে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসটি বিস্ফোরিত করার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এটি একটি রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বোমা ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের কুমার নদের পাড়ে এক কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঢাকা থেকে আসা এটিইউ-এর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের দক্ষ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর একটি নির্দিষ্ট গর্তের ভেতর বিশেষ প্রক্রিয়ায় বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কুমার নদের চারপাশ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর বোমার ধ্বংসাবশেষ ও মাটির কণা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। প্রচণ্ড শব্দের তীব্রতা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও অনুভব করা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা আলীমুজ্জামান ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। ব্যাগের ভেতরে সন্দেহভাজন বস্তুটি দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে যৌথবাহিনীর সদস্যরা এসে প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হন যে এটি একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক। জননিরাপত্তার স্বার্থে তখনই এলাকাটি জনশূন্য করা হয় এবং বিশেষ সুরক্ষার মাধ্যমে বোমাটিকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার পুরো সময়টিতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের বিশেষ ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসটি সাধারণ কোনো ককটেল বা দেশীয় বোমা ছিল না। এটি ছিল অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এই ধরণের বিস্ফোরক সাধারণত বড় কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটিইউর সদস্যরা জানান, যদি এটি লোকালয়ে বিস্ফোরিত হতো, তবে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

পুরো নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান তদারকি করেন পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তারা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। জনগণের জানমালের ঝুঁকি এড়াতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত এটি সতর্কতার সাথে পাহারা দেওয়া হয়েছিল এবং সফলভাবে এটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যে ফরিদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাজ কি না বা আসন্ন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনের বেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ফরিদপুরের জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কারা এই ব্যাগটি ব্রিজের পাশে রেখে গেছে, তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ইএইচ