শরীয়তপুরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস, ক্ষুব্ধ ভোক্তারা

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
শরীয়তপুরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস, ক্ষুব্ধ ভোক্তারা

শরীয়তপুর জেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির ২০ জন ডিলার থাকলেও কারো কাছেই সিলিন্ডার নেই এমন অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশে বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু ডিলারের কাছে নির্দিষ্ট কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও তারা তা বাজারে ছাড়ছেন না। অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারির কারণে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার এখন ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বাজার ঘুরে তথ্য মিলেছে।

রান্নাঘরে হাহাকার ও ভোগান্তি বিপদে পড়ে অনেক বাসাবাড়ির মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া দামেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করছেন। বিশেষ করে শহরের বহুতল ভবনের বাসিন্দারা লাকড়ির চুলায় রান্নার সুযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শহরের বাসিন্দা ইব্রাহিম মোল্ল্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ দাম নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। শিক্ষিকা শিরিন শীলা জানান, বাধ্য হয়ে ভবনের ওপর অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েই মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য ডিলার সেলিম খান ও বেলায়েত হোসেন জানান, মোংলা বন্দর থেকে তাদের পণ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ১ জানুয়ারি থেকে কোম্পানিগুলো সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর থেকে চাহিদার অর্ধেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছিল।

গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন, প্ল্যান্টে ছয়-সাত দিন অপেক্ষা করেও চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না। ১ হাজার সিলিন্ডারের বিপরীতে মাত্র ৪০০টি পাওয়া যাচ্ছে। এতে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতা পলাশ খান জানান, ডিলাররা গ্যাস না দেওয়ায় তারা ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

ব্যবসায় লোকসান ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া হোটেল ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ হাওলাদার বলেন, গ্যাসের দাম ৪ হাজার টাকা হওয়ায় ব্যবসায় লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা মাসুদ মাদবর জানান, সরকারি দাম ১৩০০ টাকা হলেও ডিলারদের ১৫০০ টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস একে জাতীয় সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন এবং জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানানোর পরামর্শ দেন। তবে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেএইচআর