হালুয়াঘাটে রাতের আঁধারে পুলিশের উপর হামলা, বাগবিতণ্ডা থেকে নিশংস কোপ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
হালুয়াঘাটে রাতের আঁধারে পুলিশের উপর হামলা, বাগবিতণ্ডা থেকে নিশংস কোপ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গভীর রাতে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আইনি তৎপরতা জোরদার করেছে প্রশাসন। মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক থাকা তাঁর বাবাকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গভীর রাতে যখন সাধারণ মানুষ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন চোরাচালান ও অপরাধ দমনে সড়কে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু সেই कर्तव्य পালনই কাল হয়ে দাঁড়াল পুলিশ কনস্টেবল ইজাউল হক ভূঁইয়ার জন্য। তুচ্ছ এক বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁর পিঠ ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে এক যুবক। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পাগলপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে পুরো জেলায়।

ঘটনার সূত্রপাত, একটি মোটরসাইকেল ও গভীর রাত গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তখন সাড়ে তিনটার কাছাকাছি। হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। 

একজন সহকারী উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন যুবক সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। গভীর রাতে তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেলটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আর এই জিজ্ঞাসাবাদই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে আক্রমণ মোটরসাইকেলে থাকা যুবকদের মধ্যে একজন ছিলেন মো. শাহরিয়ার আহমেদ (২৮), যিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুহুল আমিনের ছেলে। মোটরসাইকেল কেন থামানো হলো এবং কেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, এ নিয়ে পুলিশের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন শাহরিয়ার। এক পর্যায়ে তিনি পুলিশের সঙ্গে উগ্র আচরণ ও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। 

পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদস্যরা শাহরিয়ারের পাশের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে বিষয়টি জানান। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পথেই ওত পেতে থাকা শাহরিয়ার ধারালো দা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। কনস্টেবল ইজাউল হকের পিঠে সজোরে কোপ দিয়ে তিনি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যান।

রক্তক্ষরণ ও জরুরি চিকিৎসা গুরুতর আহত ইজাউল হককে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু জখম গভীর হওয়ায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। 

বর্তমানে তিনি সেখানে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পুলিশের পদক্ষেপ ও মামলা হামলার পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে শাহরিয়ারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার দুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহরিয়ারকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাবা রুহুল আমিনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। 

শুক্রবার রাতে হালুয়াঘাট থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শনিবার শাহরিয়ারকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে নিশ্চয়তা পাওয়ায় তাঁর বাবাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি একজন পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে বা গভীর রাতে এভাবে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাটি হালুয়াঘাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইনের রক্ষকদের ওপর যদি এভাবে হামলা হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই ঘটনার পর থেকে হালুয়াঘাট পৌর এলাকায় পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।

জেএইচআর