আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরি ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে কুড়িগ্রামে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও বার্তা এবং ‘ভোটের গাড়ি’র মাধ্যমে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গণভোটের মূল বিষয়বস্তু সচেতন মহলের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা এবং ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমন্বয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে না পারলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নানা মুখী প্রচার কার্যক্রম গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সরকারি ও আধাসরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যানার-ফেস্টুন স্থাপন, উঠান বৈঠক এবং সভা-সমাবেশ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের গণভোটের গুরুত্ব ও ভোট প্রদানের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।
মাঠে জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ ও চরাঞ্চলে নিজে উপস্থিত হয়ে উঠান বৈঠক করছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ ছাড়া জেলা ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমেও ভোটারদের সচেতন করার কাজ চলছে। সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝার এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে তাঁরা গণভোটের বিষয়ে পরিষ্কার ছিলেন না। জেলা প্রশাসকের উঠান বৈঠকের পর তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভোটার পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নির্বাচন পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৩১ হাজার ৭২৭ জন এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৭ জন। অর্থাৎ জেলায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার বেশি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন