মেহেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯, আটক ১

মেহেরপুর প্রতিনিধি  প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
মেহেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৯, আটক ১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার সদর ও গাংনী উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এই সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একজনকে আটক করেছে।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ সকাল ১০টার দিকে প্রথম বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত সমর্থিত কিছু ভোটার কেন্দ্রে আসার পথে বিএনপি সমর্থিত একদল যুবক তাদের গতিরোধ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এই সংঘর্ষে জামায়াতের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- তবারক হোসেন (৫০), মিনাজুল ইসলাম (৩৫), সম্রাট আলী (৩২), পেশায় ভ্যানচালক, রিপন মিয়া (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২)। 

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর মেহেরপুর-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভাটপাড়ায় সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন অভিযোগটি অস্বীকার করে একে ‘প্রতিবেশীদের মধ্যে ব্যক্তিগত রেষারেষি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে আসার জন্য সার্বক্ষণিক উৎসাহ দিচ্ছি।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।

এএন