সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এর অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের পাথরাজ খাল পুনঃখননের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার দুলালতলী বাঁধ এলাকায় পাথরাজ খাল পুনঃখননের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই খাল অনেকাংশে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন এর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।
পাথরাজ নদীটি প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি পুনঃখনন করে পানিধারণ সক্ষমতা বাড়ানো গেলে প্রায় ৫০ হাজার বিঘা জমি চাষের আওতায় আসবে। এর ফলে এই অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পরিকল্পনার আলোকে দেশের নদী-খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। ইতিমধ্যে ১৫ দিন, ১৮০ দিন এবং চার বছরের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নদীর দুই তীরে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কয়েক হাজার গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়া কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কার্যক্রম রোজার আগেই ১৫টি উপজেলায় শুরু হবে এবং পরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নদী ও খাল খননের কাজ বর্ষা মৌসুমে নয়, বরং ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীতে ব্লক ফেলা বা সরকারি অর্থের অপচয় বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি এবং পর্যায়ক্রমে আমাদের পরিকল্পনার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আপনারা দেখতে পাবেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন