হবিগঞ্জে প্রতিবন্ধী ও বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রনদীর গোপ জামিনে বেরিয়েই বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণীর মা নিভা রানী দেব লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিভা রানী দেব বলেন, আমার ২৫ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করি। ওই মামলার আসামি রনদীর গোপ সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আমাদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। লোকমুখে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যে মামলাটি তারা টাকার জোরে উড়িয়ে দেবে, আর মামলা না তুললে উল্টো আমাদেরকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ শহরের ঘোষপাড়া এলাকার মৃত মনিন্দ্র গোপের ছেলে রনদীর গোপ তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। মেয়েটি ইশারা-ইঙ্গিতে ঘটনার বিস্তারিত তাঁর কাছে এবং এলাকাবাসীর কাছে তুলে ধরে। আসামিকে দেখলেই সে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন মেয়েকে হবিগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ওসিসি-তে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ টালবাহানা ও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল।
নিভা রানী দেব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চিকিৎসা প্রতিবেদনের (মেডিকেল রিপোর্ট) স্বচ্ছতা নিয়েও আমার সন্দেহ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে কোনো কারসাজি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি। আমি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং আমার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ অত্যন্ত বিত্তশালী ও প্রভাবশালী। তাদের অর্থের দাপটের কাছে আমি আজ অসহায়।"
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি মেয়ের ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের ন্যায়বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন