রংপুর নগরীতে মর্মান্তিক এক ঘটনায় দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- সূচনা ঘোষ (৪০) ও তার দেড় বছর বয়সী ছেলে জয়দেব ঘোষ। তারা নগরীর সাজাপুর এলাকার বাসিন্দা শংকর ঘোষের স্ত্রী ও সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসার বাইরে ছিলেন। এ সময় কোনো এক পর্যায়ে সূচনা ঘোষ তার শিশু ছেলে জয়দেবকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজ ঘরের ভেতর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনাটি প্রথম দেখতে পান নিহতের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান এবং ছোট ভাইকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি তার বাবা শংকর ঘোষকে জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর তাজহাট থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়।
রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্বামী শংকর ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তার স্ত্রী মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে তার চিকিৎসাও করানো হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, মানসিক অবসাদের কারণেই তার স্ত্রী এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, পরিবারের আরেক মেয়ে পূজা ঘোষের বিয়ে হয়ে গেছে। শংকর ঘোষ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তিনি একটি ছোট মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ ও মানসিক অবসাদের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন