সরিষাবাড়ীতে শিশুর টিপসই নিয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ

রাইসুল ইসলাম খোকন, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
সরিষাবাড়ীতে শিশুর টিপসই নিয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

রোববার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ভিজিএফ বিতরণের মাস্টার রোলে শিশুর টিপসই গ্রহণ করে চাল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের জন্য ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৬০৭টি পরিবারের জন্য প্রতি পরিবারে ১০ কেজি করে মোট ৩৭৬.০৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।

চাল উত্তোলনের সময় এক নারী ও আনুমানিক সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ভিজিএফ কার্ডের চাল নিতে আসেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী লিটন মিয়া শিশুটির টিপসই নিয়ে মাস্টার রোলে স্বাক্ষরের পরিবর্তে তা গ্রহণ করেন এবং চাল উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান এবং পাশেই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্ডে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১০ কেজি চাল বিতরণের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রকৃত কার্ডধারীর পরিবর্তে শিশুর টিপসই গ্রহণ করে চাল উত্তোলনের ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্ডধারী ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়ার বিধান রয়েছে। শিশুদের মাধ্যমে মাস্টার রোলে টিপসই গ্রহণ বা সরকারি ত্রাণ উত্তোলনের কোনো প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী লিটন মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল লতিফ বলেন, “সরকারি মাস্টার রোলে শিশুর টিপসই নিয়ে চাল উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন ছিল।”

ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, শিশুরা চাল উত্তোলন করতে পারবে কি না তা আমার জানা নেই। তবে হয়তো অভিভাবকরা আসতে না পারায় শিশুদের পাঠিয়েছেন। এতে দোষের কিছু মনে করছি না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল বলেন, শিশুর টিপসই দিয়ে ভিজিএফ কার্ডের চাল উত্তোলন করা হয়ে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল বলেন, শিশুদের কোনো এনআইডি কার্ড থাকে না। তাদের টিপসই নিয়ে কীভাবে চাল দেওয়া হলো, সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএন