রাজশাহীতে শিশুদের জন্য তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রোববার সকাল ৯টায় গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি জানান, জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, রাজশাহী বিভাগে এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৫৬ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রথম দিনে জেলায় ২৭টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলছে এবং ৫ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা গেছে এবং টিকা নিতে মানুষের মধ্যে কোনো অনীহা দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে। যেসব শিশু অন্তত ২৮ দিন আগে টিকা নিয়েছে, তারাও এ কর্মসূচিতে পুনরায় টিকা পাবে। প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌর এলাকায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী তিন সপ্তাহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে। হাম প্রতিরোধে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাদাত রত্ন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন