আস্তানায় ঢুকে ‘পীরকে’ হত্যা করা হয়েছিল পুলিশের সামনেই!

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
আস্তানায় ঢুকে ‘পীরকে’ হত্যা করা হয়েছিল পুলিশের সামনেই!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্মীয় ‘দরবার শরিফে’ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ‘পীর’ হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত একটি আস্তানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যও এলাকা ঘুরে দেখেছেন।

হামলায় আরও তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে দোতলা ভবন ও গম্বুজসংলগ্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আসবাবপত্র ও বাদ্যযন্ত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহত শামীম ২০১৮ সালের দিকে পৈতৃক ভিটায় ওই আস্তানা গড়ে তোলেন এবং নিজেকে ‘সংস্কারপন্থী ইমাম’ পরিচয় দিতেন। পরে তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২১ সালে একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন এবং একই বছরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটকও হন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও জনসমাগম বেশি থাকায় হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত আছে।

এএন