নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘বৈসাবি’ বা বিজু উৎসব। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে রোববার সকাল থেকে শুরু হয় এই উৎসবের নানা কর্মসূচি।
উৎসবের শুরুতে ভোর ৬টায় কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। র্যালি শেষে পাহাড়ি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী নদীতে ফুল ভাসিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
উৎসবে আসা পাহাড়ি নারী-পুরুষরা জানান, জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। পহেলা বৈশাখে মাত্র একদিন ছুটি পাওয়ায় পাহাড়ের মূল উৎসবে যোগ দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই এবারই প্রথম স্থানীয়ভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ছোট পরিসরে হলেও নিজ সংস্কৃতির এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সুমিত বড়ুয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জে চাকুরিরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর যারা উৎসবে বাড়ি যেতে পারেননি, তাঁদের জন্যই এই বিশেষ আয়োজন। প্রথমবারের মতো আমরা নারায়ণগঞ্জে এই উৎসবটি পালন করছি। প্রশাসনসহ স্থানীয়রা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। নতুন বছর সকলের জন্য সুন্দর ও সুখময় হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজুকে সম্মিলিতভাবে ‘বৈসাবি’ বলা হয়। কাঁচপুর ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত কয়েকশ পাহাড়ি পরিবার এই উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন