শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি পন্থী ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’-এর মনোনীত প্যানেল ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন ফরম কিনতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলা, মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন নারীসহ অন্তত তিন আইনজীবী। এ ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
রোববার ছিল আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতাকর্মীরা।
প্রবীণ আইনজীবী ও এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, তিনি মনোনয়ন ফরম কিনতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি তাঁর চেম্বারে গিয়েও তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি পদে লড়ার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সিকে তাঁর চেম্বারে ঢুকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।
নারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নব আক্তার (ইতি) অভিযোগ করেন, সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষে ফরম কিনতে গেলে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা তাঁকে বাধা দেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষকে ফরম কিনতে বাধা দেওয়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবীরসহ তাঁদের পুরো প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।
অভিযোগের বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. কামরুল হাসান বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রুবায়েত আনোয়ার মনির তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাদ হোসেন জানান, তাঁরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে ভুক্তভোগী আইনজীবীদের দাবি, ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তাঁদের নির্বাচনী অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন